Hidden Stories (বাংলা)

CFL 2026: নাটকীয় সুপার সিক্স, ১০ জনের লড়াইয়ে মহমেডানকে উড়িয়ে ৮ বছর পর কলকাতা লিগের রঙ সবুজ-মেরুন!

কলকাতা: শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রক্তচাপ বাড়ানো চরম নাটকীয়তা, লাল কার্ড, পেনাল্টি এবং পিছিয়ে পড়েও অসাধারণ প্রত্যাবর্তন! এক ম্যাচে ফুটবলীয় থ্রিলারের যা যা রসদ থাকা সম্ভব, তার সবটাই সাক্ষী থাকল বারাসত বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গন। আর সেই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে মহমেডান স্পোর্টিংকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ ৮ বছর পর কলকাতা ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়ন হল মোহনবাগান। ইস্টবেঙ্গল তাদের শেষ ম্যাচে কোল ইন্ডিয়াকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ব্যবধান বাড়ালেও, বারাসতে সবুজ-মেরুনের জয়ে লাল-হলুদের লিগ জয়ের হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেল। লিগের সুপার সিক্সে ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট তুলে নিয়ে ট্রফি ঘরে তুলল বাগান।কলকাতা লিগের রাউন্ড রবিন পর্বে মোহনবাগানের পারফরম্যান্স খুব একটা আশা জাগাতে পারেনি। কোনও মতে প্রথম ৩ দলের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছিল তারা। কিন্তু সুপার সিক্সে উঠে সমস্ত হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিল বাস্তব রায়ের দল। ৮ বছর পর তাঁবুতে ট্রফি ফেরাতে মরিয়া মোহনবাগান এদিন প্রথম একাদশেই নামিয়ে দিয়েছিল শুভাশিস বসু, রাহুল ভেকে, দীপক টাংরি, লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে, সাহাল সামাদ ও মনবীর সিংহের মতো প্রথম সারির একঝাঁক তারকাকে।শনিবার ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। ৭ মিনিটেই সাহালের শট আটকে দেন সাদা-কালো গোলরক্ষক। ৯ ও ১৬ মিনিটেও সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন সাহাল। অবশেষে ২৬ মিনিটে খোলে জট। বাঁ দিক থেকে লালিয়ানজুয়ালা ছাংতের মাপা ক্রসে দুরন্ত হেডে গোল করে মোহনবাগানকে ১-১ সমতায় এগিয়ে দেন সাহাল সামাদ। তবে বিরতির ঠিক আগেই ৪২ মিনিটে ম্যাচের ছবি বদলে দেয় মহমেডান। থাংখিমার বাড়ানো নিখুঁত পাস থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে মোহনবাগান গোলকিপার দীপ্রভাত ঘোষকে পরাস্ত করে ১-১ সমতা ফেরান লালরেমসাঙ্গা।দ্বিতীয়ার্ধের খেলা গড়াতেই চরম নাটকের সূত্রপাত। ৫৯ মিনিটে ফাঁকায় বল পেয়ে মোহনবাগান বক্সে ঢুকে পড়েন লালরেমসাঙ্গা। তাঁকে আটকাতে গিয়ে বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন বাগান গোলরক্ষক দীপ্রভাত। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজানোর পাশাপাশি দীপ্রভাতকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান। ফলে ১০ জনে নেমে যেতে হয় সবুজ-মেরুনকে। বাধ্য হয়ে সাহালকে বসিয়ে রিজার্ভ গোলকিপার সৈয়দ জাহিদ হুসেন বুখারিকে মাঠে নামায় মোহনবাগান। ৬৩ মিনিটে সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে মহমেডানকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মহীতোষ রায়।১০ জন হয়ে পড়া এবং ১ গোলে পিছিয়ে যাওয়া— এই পরিস্থিতিতে ম্যাচ যখন মহমেডানের দিকে হেলে পড়েছে বলে মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই শুরু হয় সবুজ-মেরুনের অদম্য লড়াই। ১ ফুটবলার কম থাকা সত্ত্বেও হাল ছাড়েনি তারা। ৭০ মিনিটে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল করে দলকে সমতায় ফেরান সাহাল। আর তার ঠিক ৩ মিনিট পর, ৭৩ মিনিটে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখধাঁধানো গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ১০ জনের মোহনবাগান।শেষ বাঁশি বাজতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে সবুজ-মেরুন গ্যালারি। ৫ দলের খেলায় সমস্ত সমীকরণ ভেস্তে দিয়ে মরশুমের প্রথম ট্রফি ঢুকে গেল মোহনবাগান তাঁবুতে। ৩ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করল ইস্টবেঙ্গল। ৪ পয়েন্ট করে নিয়ে যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রইল মহমেডান ও ভবানীপুর। ৮ বছরের খরা কাটিয়ে কলকাতা লিগে আবার উড়ল সবুজ-মেরুন নিশান।

CFL 2026: নাটকীয় সুপার সিক্স, ১০ জনের লড়াইয়ে মহমেডানকে উড়িয়ে ৮ বছর পর কলকাতা লিগের রঙ সবুজ-মেরুন!