Kolkata Police: কেন পালাবদলের পর এই প্রথম শহরের মণ্ডপে মণ্ডপে বসছে ‘পুলিশ পোস্ট’? আসল কারণ কিন্তু চমকে দেওয়ার মতো!
কলকাতা: বঙ্গসমাজে প্রচলিত রয়েছে এক চিরন্তন মিথ! দেবী দুর্গা মর্ত্যে এসে রূপের সাজে সাজেন উত্তর কলকাতার শিবকৃষ্ণ দাঁ-র বাড়িতে, অন্নগ্রহণ করেন কুমোরটুলির অভয়চরণ মিত্রের প্রাসাদে আর গভীর রাতে শোভাবাজার রাজবাড়িতে বসে উপভোগ করেন নাচগান। তবে কালের নিয়মে অভিজাত রাজবাড়ির গণ্ডি পেরিয়ে সেই চিরাচরিত সাজ আজ ধরা দিয়েছে তিলোত্তমার মেগা বারোয়ারি পুজো মণ্ডপগুলিতেও। উত্তর থেকে দক্ষিণ, একাধিক পুজোয় এখন দশভুজা সেজে উঠছেন সোনা ও রুপোর ভারী অলঙ্কারে। কিন্তু উৎসবের রঙিন আলো আর উপচে পড়া ভিড়ের আড়ালে গয়না হাতানোর সুযোগ নিতে পারে সুযোগসন্ধানী চোর-ডাকাতের দল। তাই ভিভিআইপি নিরাপত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শহরের মোট ১৫টি হাই-প্রোফাইল মণ্ডপের নিরাপত্তায় অভিনব কড়াকড়ি শুরু করল লালবাজার।রাজ্যে নতুন সরকারের পালাবদলের পর এই প্রথমবার তিলোত্তমার বিশেষ ১৫টি পুজো মণ্ডপ ঘিরে বসানো হচ্ছে সুনির্দিষ্ট সশস্ত্র ‘পুলিশ পোস্ট’। লালবাজার সূত্রে খবর, উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই ১৫টি বারোয়ারি পুজোয় দুর্গাপ্রতিমার গা ভর্তি থাকে বহুমূল্য সোনার গয়নায়। মণ্ডপে যখনই ফাঁকা ভাব আসে, তখনই সুযোগ নিতে পারে দুষ্কৃতীরা। তাই মায়ের এই অলঙ্কার ও বিগ্রহ সুরক্ষায় এবার কোনওপ্রকার ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। পুরো পুজোর দিনগুলিতে এক মিনিটের জন্যও যাতে গয়না নজরছাড়া না হয়, তার জন্য চব্বিশ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন সশস্ত্র প্রহরা বসানো হয়েছে।লালবাজারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মধ্য কলকাতার একটি প্রথম সারির ভিড় টানা মণ্ডপে গয়না পাহারা দেওয়ার বিশেষ দায়িত্বে থাকবেন দু’জন অফিসার ও দু’জন রাইফেলধারী পুলিশকর্মী। ওই দুই অফিসারের মধ্যে এক জন সাব-ইন্সপেক্টর বা সার্জেন্ট এবং অপর জন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর নিজেদের সার্ভিস পিস্তল নিয়ে মোতায়েন থাকবেন। অন্যদিকে, তালতলার এসএন ব্যানার্জি রোডের মণ্ডপটিতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছেন এক জন এএসআই এবং জোড়া সশস্ত্র কনস্টেবল। বাকি ১৩টি পুজো মণ্ডপেও বসছে একই ধরনের পিকেট বা পুলিশ পোস্ট, যেখানে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল হাতে দু’জন করে সশস্ত্র পুলিশকর্মী রাত জেগে পাহারা দেবেন।এই বিশেষ ১৩টি মণ্ডপের মধ্যে চারটিই রয়েছে পূর্ব কলকাতার বেনিয়াপুকুর এলাকায়। বাকি মণ্ডপগুলি অবস্থান করছে উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর ও জোড়াবাগান, দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ, কালীঘাট, ভবানীপুর, গড়িয়াহাট, পঞ্চসায়র এবং এন্টালি অঞ্চলে। দু’টি আলাদা শিফটে চব্বিশ ঘণ্টা মোতায়েন থাকছেন পুলিশকর্মীরা। শুধু সরকারি রক্ষীই নয়, বহিরাগতদের মায়ের কাছাকাছি যাওয়া ঠেকাতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে এই ১৫টি মণ্ডপ।