IFA Shield Final 2026: বাগানে উজ্জ্বল শিল্ড, ক্ষোভ আর হতাশা লাল-হলুদে!
কলকাতা: ট্রফি ঢুকল মোহনবাগানের তাঁবুতে। কিন্তু যুবভারতীর মেজাজ ছুঁতে পারল না শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি। কলকাতা লিগের পর এবার আইএফএ শিল্ড, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে মরশুমের টানা দ্বিতীয় ট্রফি পকেটে পুরল সবুজ-মেরুন। তবুও বৃহস্পতিবার রাতের যুবভারতী মাঠ ছাড়ার সময় নিরপেক্ষ ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন উঁকি দিল, মোহনবাগান জিতল ঠিকই, কিন্তু মাঠের ফুটবল কি সত্যিই জিততে পারল? উৎসবের আবহেও তিলোত্তমার মেগাম্যাচে ঘুরে ফিরে এল সেই বহু পরিচিত, গতিহীন, ম্যাড়মেড়ে ফুটবলের কঙ্কালসার চেহারা।ম্যাচের ফলাফল যাই হোক, এই ডার্বি স্পষ্ট করে দিল ইস্টবেঙ্গলের চরম স্ট্র্যাটেজিক ব্যর্থতা ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের মাশুল। সেমিফাইনালে নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডকে ৭-২ গোলেই যে আত্মতুষ্টি লাল-হলুদ শিবিরে ঢুকে পড়েছিল, ফাইনালে তার করুণ পরিণতি দেখা গেল। জাতীয় দল থেকে সদ্য ফেরা আনোয়ার আলির মতো নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডারকে পুরো ৯০ মিনিট বেঞ্চে বসিয়ে রাখার মাশুল দিতে হল চড়া দামে। হার্দিক-চুংনুঙ্গাদের অগোছালো রক্ষণ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল সবুজ-মেরুন ফরোয়ার্ডদের সামনে। দল যদি আরও বড় লজ্জার হাত থেকে বাঁচে, তবে তার একমাত্র কৃতিত্ব গোলকিপার ফুরবা লাচেনপার। একের পর এক চমৎকার সেভ না করলে হারের ব্যবধান অনায়াসেই লজ্জা বাড়াতে পারত।লাল-হলুদ হেডস্যর আন্তোনিও লোপেজ হাবাস ম্যাচের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি। তবে ড্রেসিংরুম সূত্রের খবর, আগামী মঙ্গলবার ইরাকের আল শোর্তার বিরুদ্ধে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর ম্যাচ থাকায় শিল্ড ডার্বিতে নাকি 'অতিরিক্ত শক্তি' খরচ করতে চাননি তিনি! অথচ মাঠের সাইডলাইনে ক্ষণে ক্ষণে মেজাজ হারিয়ে রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়াতে দেখা যায় এই স্প্যানিশ কোচকেই। জাতীয় দলের ‘ক্লান্তি’র অজুহাত দেখিয়ে আনোয়ার, ডেভিডদের বাইরে বসানোর সিদ্ধান্ত এবং গত ডার্বির নায়ক এডমুন্ড লালরিন্ডিকার চূড়ান্ত অফ-ফর্ম হাবাসের মগজাস্ত্রে মরচে পড়ার ইঙ্গিতই দিচ্ছে। সেঞ্চুরি স্পিরিট নিয়ে গ্যালারি ভরানো সমর্থকরা ম্যাচ শেষে তাই ক্ষোভ উগরে দিলেন শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের ওপর।অন্যদিকে, প্যানাজিওটিস দিলেমপেরিসের মোহনবাগান দল হিসেবে অনেকটাই বেশি সংহত ও ফোকাসড দেখাল। অধিনায়ক শুভাশিস বসুকে বিশ্রামে পাঠিয়ে অভিষেক থেকচামকে নামানোর মাস্টারস্ট্রোক পুরো মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এনে দেয় সমীর জেলকোভিচদের হাতে। মোহনবাগান রক্ষণের জমাট পারফরম্যান্সের সামনে ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে লাল-হলুদের আক্রমণ একেবারে প্রতিহত হয়ে যায়।ম্যাচ শেষে ইস্টবেঙ্গলের মহম্মদ রশিদের গলায় অবশ্য ঘুরেফিরে এল এএফসি-র কথাই। তাঁর দাবি, "কে খেলল আর কে খেলল না, তা বড় কথা নয়। এই হারের প্রভাব এএফসি বা আইএসএলে পড়বে না।" তবে সত্যটা হল, কলকাতা লিগের পর আইএফএ শিল্ড, টানা দুই ট্রফি হাতছাড়া হয়ে লাল-হলুদ ড্রেসিংরুমে এখন শুধুই চরম নৈরাশ্য, আর অন্যদিকে ট্রফি পেলেও ডার্বির ফুটবলে সেই চেনা ছন্দ আর গতির অভাব কিন্তু মেটাতে পারল না মোহনবাগানও।