PM Modi Bloomberg speech 2026: বিশ্বমঞ্চে ভারতকে 'গণতন্ত্রের জননী' আখ্যা মোদীর, কংগ্রেসের পতনের জন্য রাহুলকেই দায়ী করলেন শাহ
নয়াদিল্লি: একদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের বহুমাত্রিক গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও ডিজিটাল শক্তির জয়গান। অন্যদিকে নির্বাচনী ব্যর্থতা নিয়ে বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বকে তীব্র রাজনৈতিক বাণ! মঙ্গলবার রাজধানীর রাজনীতির পারদ স্পর্শ করল চরম উত্তাপ। দিল্লিতে আয়োজিত ‘ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে’ বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতকে সমস্বরে ‘গণতন্ত্রের জননী’ (Mother of Democracy) বলে অভিহিত করলেন। ঠিক সেই সময়েই আবার ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) নিয়ে সরব হওয়া লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে কড়া ভাষায় নিশানা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর এই রাজনৈতিক যুদ্ধ ও জাতীয় চর্চার মধ্যেই মোদী মন্ত্রিসভা এবং রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিয়ে নতুন জল্পনা উসকে দিলেন কেন্দ্রীয় তথ্য-সম্প্রচার ও সংসদীয় বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এল মুরুগান।রাজধানীর অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক কাঠামোর খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের জননী। আমাদের দেশে ১০০টিরও বেশি ভাষা, প্রায় ৮০ হাজার নিবন্ধিত সংবাদপত্র এবং ১ হাজারেরও বেশি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল রয়েছে। সোশাল মিডিয়ার যুগেও ৫০ কোটির বেশি ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী স্বাধীন ভাবে মতামত প্রকাশ করছেন।” মোদী জোর দিয়ে বলেন, সরকারের ক্ষমতার মূল উদ্দেশ্য নাগরিকদের নির্ভরশীল করে তোলা নয়, বরং তাঁদের ক্ষমতায়ন ঘটানো। প্রযুক্তি ও জ্ঞানকে জনকল্যাণে ব্যবহার করাই হাজার বছরের ভারতীয় সংস্কৃতির মূল দর্শন।অন্য দিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) প্রক্রিয়াকে কংগ্রেসের হারের বাহানা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তোপ দাগেন তিনি। গুজরাটের গান্ধীনগর পুরনিগমসহ বিভিন্ন পুরভোটে বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়ের কথা স্মরণ করিয়ে শাহ প্রশ্ন তোলেন, “এই এসআইআর প্রক্রিয়া ২০২৪ সালের পর শুরু হয়েছে, কিন্তু রাহুল গান্ধী রাজনীতিতে আসার পর থেকেই তো কংগ্রেস লাগাতার হেরে চলেছে! তবে কি গুজরাটের নির্বাচনে কংগ্রেসের হারের জন্যও এসআইআর দায়ী?” শাহের মতে, নিজের ও দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতা ঢাকতেই রাহুল নতুন অজুহাত খুঁজছেন।জাতীয় রাজনীতির এই টানাপোড়েনের মাঝেই হঠাৎ রাজনৈতিক জল্পনা বাড়িয়ে কেন্দ্রীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন এল মুরুগান। প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে মন্ত্রীত্ব ও রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে অব্যাহতির আর্জি জানিয়ে ইস্তফা দেন তিনি। সোশাল মিডিয়া পোস্ট এবং দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে তামিলনাড়ুর মাটিতে একেবারে বুথ স্তর থেকে পদ্ম শিবিরকে শক্তিশালী করতেই এই সিদ্ধান্ত তাঁর। দলীয় কার্যালয়ে সাধারণ কর্মীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার সদিচ্ছা প্রকাশ করে মুরুগান জানান, তাঁর নীতি—‘দেশ আগে, দল তার পর, আর ব্যক্তি সবার শেষে’। সব মিলিয়ে, দেশের গণতান্ত্রিক বার্তা, তীব্র রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি এবং বিজেপির সাংগঠনিক রদবদলের এই ত্রিমুখী সমীকরণে সরগরম রাজধানীর রাজনৈতিক অলিন্দ।