Hidden Stories (বাংলা)

Flydubai: ফ্লাইদুবাই কাণ্ডকে সরাসরি ‘জঙ্গি হামলা’র তকমা, মুখ খুলে দাবি সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর

নয়াদিল্লি: মাঝআকাশে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটার দিনকয়েক অতিক্রান্ত। প্রাথমিক নানা অনুমান ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে ফ্লাইদুবাই উড়ানকাণ্ডে মুখ খুলল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) প্রশাসন। শনিবার সরকারি বার্তা জারি করে আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল ও শীর্ষ কূটনীতিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এই ঘটনা কোনও সাধারণ গোলযোগ বা বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা ছিল না। বরং ককপিটে কুঠার দিয়ে ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের উপর আক্রমণ চালিয়ে এক ভয়াবহ 'জঙ্গি হামলা' চালানো হয়েছিল! আর সেই মরণপণ সংঘাতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ১৭৪ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচানো ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে 'প্রকৃত বীরে’র কুর্নিশ জানাল আবুধাবি।স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ঘটনার পর এতদিন কেন পুরোপুরি নীরব ছিল ইউএই প্রশাসন? কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক উড়ান নিরাপত্তার দুর্বলতা এবং বিমানের অভ্যন্তরীণ কর্মী নিয়োগে নজরদারির চরম ফাঁকফোকর ধামাচাপা দেওয়া কিংবা তাড়াহুড়ো করে কোনও মন্তব্য না করাই ছিল এর মূল কারণ। তবে তদন্ত প্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হামামির কট্টরপন্থী উগ্রবাদী মানসিকতা ও সুপরিকল্পিত ছকের অকাট্য তথ্যপ্রমাণ হাতে আসতেই বাধ্য হয়ে মুখ খুলল আমিরশাহি। ইউএই-র সিনিয়র ডিপ্লোম্যাটিক অ্যাডভাইজার আনোয়ার গারগাশ সমাজমাধ্যমে লেখেন, “এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলা ও সম্ভাব্য বিপর্যয়ের মুখে ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর যে সাহস, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ দেখিয়েছেন, তা অভূতপূর্ব। চরম অন্ধকার মুহূর্তে তাঁর এই আত্মত্যাগ তাঁকে প্রকৃত বীর হিসেবে তুলে ধরেছে।”ইউএই প্রসেকিউটারদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী উড়ানে উগ্রপন্থী ভাবধারায় দীক্ষিত হামাম ককপিটে থাকা জরুরি 'ক্র্যাশ এক্স' বা কুঠার দিয়ে কুপিয়ে আক্রমণ করে ভারতীয় মূল পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে। [TECHTARANGA-POST:13286]মূলত ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর আন্তর্জাতিক বিমান চালনার নিয়ম মেনে এই কুঠার ককপিটের ভেতরে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়। কিন্তু সেই জরুরি সরঞ্জামকেই অস্ত্র বানিয়ে ৩৪,০০০ ফুট উঁচুতে বিমান ধ্বংস করার চেষ্টা করে হামাম। রক্তাক্ত অবস্থায় মাত্র ৩০ সেকেন্ডে ১৬,০০০ ফুট নীচে নেমে আসা বোয়িং ৭৩৭-এর ককপিটের দরজা নিজের সাহসিকতায় খুলে দেন স্মিত। এরপরই যাত্রীরা ভেতরে চড়াও হয়ে হামলাকারীকে পরাস্ত করেন।তদন্তে আরও উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০২৪ সালে ওমান এয়ারে কর্মরত অবস্থাতেই উগ্রপন্থী নথিসহ ধরা পড়ায় হামামকে বিমান চালনার কাজ থেকে বরখাস্ত করেছিল ওমান। পরবর্তীতে রয়্যাল এয়ার মারোক ঘুরে চলতি বছরের গোড়াতেই কী ভাবে তাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল দুবাই-তেল আবিব রুটের উড়ানে নিয়োগ করল ফ্লাইদুবাই, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন নিরাপত্তার নীতি এখন বিরাট প্রশ্নের মুখে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আল-কায়দার প্রাক্তন প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরির ছবি পোস্ট এবং আগাম পরিকল্পিতভাবে উগ্রবাদী বার্তা ছড়ানোর প্রমাণ মেলায় এই আন্তর্জাতিক চক্রান্তের গভীরে পৌঁছাতে চাইছে যৌথ তদন্তকারী দল।

Flydubai: ফ্লাইদুবাই কাণ্ডকে সরাসরি ‘জঙ্গি হামলা’র তকমা, মুখ খুলে দাবি সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর