Madan Mitra controversy: ফের রাজনীতি ছাড়ার ইঙ্গিত! বিজয়ার বার্তার আড়ালে কি ফের শিরোনামে থাকার কৌশল মদন মিত্রের?
কলকাতা: রাজনীতি ছাড়ার জল্পনা আর মদন মিত্র যেন সমার্থক! এর আগেও পুজো বা বিশেষ সময়ে রাজনীতি থেকে সন্ন্যাসের ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত ময়দানেই থেকে গিয়েছেন কামারহাটির এই রঙিন বিধায়ক। আর এবার বিজয়ার আবহে সরাসরি রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা করে ফের শোরগোল ফেলে দিলেন তিনি। প্রশ্ন উঠছে, খুন-সন্ত্রাসের জুজু বা অভিমানের কান্নার আড়ালে এটা কি নেহাতই রাজনৈতিক কৌশল? খবরের শিরোনামে থাকার পুরোনো চেনা কায়দাতেই কি ফের লাইমলাইটে আসতে চাইছেন মদন?দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারে কখনও মমতার ‘কালারফুল বয়’, কখনও আবার দলবদলের গুঞ্জনে খবরের শিরোনামে থাকা মদন এবার বিজয়া দশমীতে চরম হতাশার সুর শুনিয়েছেন। তাঁর দাবি, খুন ও সন্ত্রাসের ভয়ে যাঁরা তাঁকে জিতিয়েছেন, তাঁদের কাছেই বিজয়ায় যেতে পারেননি তিনি। তাঁর কথায়, “রাজনীতিতে এখন চালের চেয়ে কাঁকড় বেশি। আমি এই রাজনীতিকে ঘৃণা করি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজের প্রতিও ঘৃণা হয়।” ঋতব্রত শিবিরে নাম লেখানো প্রসঙ্গে বা মমতার সঙ্গ ছাড়ার বিষাদ ভুলে শেষ মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী, উভয়কেই বিজয়ার শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তিনি। প্রশ্ন উঠছে, যিনি একদা তৃণমূলের দুর্দিনে ‘দিদি’র পাশ থেকে দলবদলের খেলায় মেতেছিলেন, তাঁর মুখে হঠাৎ এই নীতিবাক্য কতটা বাস্তবসম্মত?রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মদন মিত্রের এই বারবার রাজনীতি ছাড়ার কথা বলা বা আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠার নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখার সুকৌশলী প্রয়াস। সামনেই পুরভোট। অথচ কামারহাটিতে নিজের আধিপত্য এবং দলে ক্রমহ্রাসমান গুরুত্ব ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে তিনি যে কোণঠাসা, তা বিভিন্ন মহলেই চর্চিত। অনুগামীদের একাংশের দাবি, বিরোধীদের চাপ ও সুরক্ষার আশঙ্কার কথা বলে আসলে সহানুভূতি কুড়োনোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন কামারহাটির বিধায়ক। চোখে জল এনে ‘রাজনীতির সঙ্গে বেইমানি’ করার তাত্ত্বিক কথা বললেও, আদতে সামনের নির্বাচনে নিজের অবস্থান পাকা করতে এবং মিডিয়ার স্পটলাইটে থাকতে এটি তাঁর সুচিন্তিত রাজনৈতিক চাল বৈকি!চোখের জল আর গলায় জমে থাকা কান্নার রেশ কাটতে না কাটতেই খবরের শিরোনামে কীভাবে থাকতে হয়, তা মদন মিত্র ভালোই জানেন। রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা করে মাঠ গরম করলেও কামারহাটির এই হাই-প্রোফাইল নেতার শেষ পর্যন্ত ময়দান ছাড়ার সাহস বা সদিচ্ছা আছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সংশয় রয়েছে। বিজয়ার এই বার্তার পরেও কামারহাটির এই রঙিন রাজনীতিবিদের পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।