রৌরকেল্লা: মাত্র এক বছর আগে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি যে হাই-প্রোফাইল সরকারি সার্কিট হাউসের উদ্বোধন করেছিলেন, সেই বাংলোই এখন চরম কেলেঙ্কারি ও বিতর্কের উৎসস্থল। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনার স্মৃতি মেলাতে না মেলাতেই এবার এই সরকারি ভিভিআইপি বাংলোয় এক নীল ছবির তারকাকে রাত কাটানোর ব্যবস্থা ও এলাহি আতিথেয়তা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল। সোশাল মিডিয়ায় সেই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে। ঘটনায় মুখ পুড়েছে ওড়িশার বিজেপি সরকারের। চাপের মুখে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত নীল ছবির তারকা টিনা নন্দীর একটি সোশাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে। সম্প্রতি নিজের অ্যাকাউন্টে ৫ মিনিটের একটি ভিডিও শেয়ার করেন টিনা। সেখানে তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর তিনি রৌরকেল্লার ওই সার্কিট হাউসে উঠেছিলেন। তাঁর রাজকীয় আতিথেয়তার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, ঝাড়সুগুড়া বিমানবন্দর থেকে তাঁকে নিয়ে আসার জন্য একটি বিলাসবহুল ‘অডি’ গাড়ির ব্যবস্থা করেছিল প্রশাসন। এমনকি ওই ভিভিআইপি সার্কিট হাউসে তাঁর আরামের যাতে কোনো খামতি না থাকে, তারও বন্দোবস্ত করা হয়। একই সঙ্গে ভিডিওতে এক পুলিশ সুপার (এসপি) ও তাঁর পুত্রের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথা ক্যাজুয়ালি উল্লেখ করেন টিনা।সরকারি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের জন্য সংরক্ষিত এই বাংলোয় একজন নীল ছবির তারকা কী ভাবে ঘর পেলেন এবং কার নির্দেশে তাঁর জন্য এমন ভিভিআইপি ব্যবস্থার বন্দোবস্ত করা হল ? ভিডিওটি সামনে আসতেই এই প্রশ্নে শোরগোল পড়ে যায়। তদন্তে নেমে পুলিশ এবং ফ্যাক্ট-চেকারদের হাতে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যে এসপি-র নাম টিনা ভিডিওতে উল্লেখ করেছিলেন, তিনি আসলে প্রয়াত অবসরপ্রাপ্ত ভিজিল্যান্স এসপি প্রসন্নকুমার মহান্তি, যিনি কোভিডের সময় মারা গিয়েছিলেন।প্রশাসনের নাকের ডগায় কী ভাবে এই কাণ্ড ঘটল, তার তদন্তে নেমে পুলিশ পুরো জালটি উন্মোচন করে। জানা যায়, একটি সোনা বিপণন সংস্থার প্রচারের কাজে রৌরকেল্লা এসেছিলেন টিনা। সেই সংস্থার ডিরেক্টর এডউইন মার্টিন নায়ার তাঁকে আমন্ত্রণ জানান। আর এই তারকাকে সার্কিট হাউসে ওঠানোর নেপথ্যে মূল ভূমিকা নেন প্রয়াত ওই অবসরপ্রাপ্ত এসপি-র পুত্র আশিস মহান্তি। সরকারি বাংলোর কর্মীদের ব্যবহার করে বেআইনিভাবে ঘরের বন্দোবস্ত করা হয়। এমনকি আশিসের নির্দেশেই শুভেন্দু পণ্ডা নামে এক ব্যক্তির বিলাসবহুল অডি গাড়িতে করে বিমানবন্দর থেকে টিনাকে নিয়ে আসা হয়েছিল।তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সার্কিট হাউসের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি প্রয়াত এসপি-র পুত্র আশিস মহান্তি, গাড়ির মালিক শুভেন্দু পণ্ডাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছে সোনা বিপণন সংস্থার ডিরেক্টর এডউইন মার্টিন নায়ার। পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসেও এই সার্কিট হাউস থেকে অভিযান চালিয়ে প্রচুর বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার করেছিল পুলিশ, গ্রেপ্তার হয়েছিল ৭ জন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ব্লু ফিল্মের তারকার আতিথেয়তা বিতর্কে নতুন করে ঘি ঢালল। সরকারি বাংলোর অপব্যবহারের এই ঘটনায় প্রশাসনিক স্তরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।