Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Election Commission: ১২ বছর লাগবে এসআইআরের কাজ শেষ হতে? সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা, ট্রাইব্যুনাল বাড়াতে জোর সওয়াল কমিশনের!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Election Commission: ১২ বছর লাগবে এসআইআরের কাজ শেষ হতে? সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা, ট্রাইব্যুনাল বাড়াতে জোর সওয়াল কমিশনের!
ফাইল ছবি।

নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্তির মামলা নিষ্পত্তিতে লেগে যেতে পারে টানা ১২ বছর! সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে এই মারাত্মক আশঙ্কার কথা প্রকাশ করল খোদ নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালগুলির কাজের যে অতি ধীর গতি, তাতে ভোটারদের দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলতে হতে পারে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় রাজ্যে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়ানোর জোর সওয়াল করেছে কমিশন।

কমিশনের পেশ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে শুনানি শুরু হওয়ার পর গত পাঁচ মাসে মাত্র ১ লক্ষ ২৬ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। অথচ এই মুহূর্তে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৭ লক্ষ ৫ হাজার ২৩৫টি! এর মধ্যে প্রায় ২২.২১ লক্ষ আবেদন করেছেন সেই সমস্ত সাধারণ মানুষ, যাঁদের নাম ভুলবশত তালিকা থেকে বাদ গিয়েছিল এবং তাঁরা তা ফিরিয়ে আনার জন্য আর্জি জানিয়েছেন। বাকি মামলাগুলি জমা পড়েছে অন্যের বেআইনি নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে। হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ২৫,২৩০ টি মামলার সমাধান হচ্ছে। ছুটির দিন বাদ না দিয়ে সপ্তাহে সাত দিনও যদি অফিসাররা কাজ করেন, তাও এই বিশাল পাহাড়প্রমাণ আবেদন মেটাতে কমপক্ষে ১৪৬ মাস বা ১২ বছরের বেশি সময় লেগে যাবে।

তবে সামান্য হলেও স্বস্তির খবর, এ পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া ১ লক্ষ ২৬ হাজার মামলার মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৯৪৩ জন আবেদনকারীর নামই ভোটার তালিকায় সফলভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা মোট নিষ্পত্তিকৃত আপিলের ৯০ শতাংশেরও বেশি।

কমিশনের তরফে শীর্ষ আদালতকে জানানো হয়েছে, এমন বিপুল পরিমাণ আবেদনের চাপ সামলানোর মতো প্রয়োজনীয় কর্মী ও পরিকাঠামো বর্তমানে নেই। এই দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে ২৪টি ট্রাইব্যুনালের পরিধি বাড়িয়ে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের জন্য ৪২টি পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কাজের গতি বাড়াতে ট্রাইব্যুনালের আধিকারিকদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার বিশেষ অনুমতি দেওয়ার সুপারিশও জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই এই নিয়ে চরম টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। একদিকে তৃণমূল এই প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে সরব হয়েছে, অন্যদিকে জাতীয় কংগ্রেস এই বিলম্বের জন্য সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে তোপ দাগছে।


বিষয় : WestBengalNews BengalPolitics ElectionCommission SupremeCourt HiddenStoriesNews sirupdate SupremeCourt ElectionCommission VoterListRevision BengalPolitics WestBengalNews

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


Election Commission: ১২ বছর লাগবে এসআইআরের কাজ শেষ হতে? সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা, ট্রাইব্যুনাল বাড়াতে জোর সওয়াল কমিশনের!

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্তির মামলা নিষ্পত্তিতে লেগে যেতে পারে টানা ১২ বছর! সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে এই মারাত্মক আশঙ্কার কথা প্রকাশ করল খোদ নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালগুলির কাজের যে অতি ধীর গতি, তাতে ভোটারদের দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলতে হতে পারে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় রাজ্যে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়ানোর জোর সওয়াল করেছে কমিশন।কমিশনের পেশ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে শুনানি শুরু হওয়ার পর গত পাঁচ মাসে মাত্র ১ লক্ষ ২৬ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। অথচ এই মুহূর্তে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৭ লক্ষ ৫ হাজার ২৩৫টি! এর মধ্যে প্রায় ২২.২১ লক্ষ আবেদন করেছেন সেই সমস্ত সাধারণ মানুষ, যাঁদের নাম ভুলবশত তালিকা থেকে বাদ গিয়েছিল এবং তাঁরা তা ফিরিয়ে আনার জন্য আর্জি জানিয়েছেন। বাকি মামলাগুলি জমা পড়েছে অন্যের বেআইনি নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে। হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ২৫,২৩০ টি মামলার সমাধান হচ্ছে। ছুটির দিন বাদ না দিয়ে সপ্তাহে সাত দিনও যদি অফিসাররা কাজ করেন, তাও এই বিশাল পাহাড়প্রমাণ আবেদন মেটাতে কমপক্ষে ১৪৬ মাস বা ১২ বছরের বেশি সময় লেগে যাবে।তবে সামান্য হলেও স্বস্তির খবর, এ পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া ১ লক্ষ ২৬ হাজার মামলার মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৯৪৩ জন আবেদনকারীর নামই ভোটার তালিকায় সফলভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা মোট নিষ্পত্তিকৃত আপিলের ৯০ শতাংশেরও বেশি।কমিশনের তরফে শীর্ষ আদালতকে জানানো হয়েছে, এমন বিপুল পরিমাণ আবেদনের চাপ সামলানোর মতো প্রয়োজনীয় কর্মী ও পরিকাঠামো বর্তমানে নেই। এই দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে ২৪টি ট্রাইব্যুনালের পরিধি বাড়িয়ে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের জন্য ৪২টি পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কাজের গতি বাড়াতে ট্রাইব্যুনালের আধিকারিকদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার বিশেষ অনুমতি দেওয়ার সুপারিশও জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই এই নিয়ে চরম টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। একদিকে তৃণমূল এই প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে সরব হয়েছে, অন্যদিকে জাতীয় কংগ্রেস এই বিলম্বের জন্য সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে তোপ দাগছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত