মুর্শিদাবাদ: যাত্রী সেজে টোটোতে উঠেছিল কয়েকজন। গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই চালককে স্প্রে জাতীয় কিছু দিয়ে অচেতন করার অভিযোগ। তারপর আচমকা চালককে রাস্তার ধারে ফেলে রেখে টোটো আর নগদ টাকা নিয়ে চম্পট! প্রায় দু’দিন ধরে জ্ঞান ফেরেনি টোটো চালকের। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকার টোটো চালকদের মধ্যেও।
ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের কাঁকুরিয়া এলাকার টোটো চালক সাহেব আলীর সঙ্গে। অভিযোগ, দু’দিন আগে রঘুনাথগঞ্জের ওমরপুর মোড় থেকে কয়েকজন যাত্রী শামশেরগঞ্জের ডাকবাংলা যাওয়ার জন্য তাঁর টোটো রিজার্ভ করেন। যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে তাঁদের নিয়ে রওনা দেন সাহেব আলী।
পরিবারের অভিযোগ, চাঁদের ট্যাক্স এলাকা পেরিয়ে শামশেরগঞ্জের দিকে যাওয়ার সময় মাঝপথেই ঘটে বিপত্তি। টোটোতে থাকা যাত্রীরা কোনও নেশাজাতীয় পদার্থ বা স্প্রে জাতীয় কিছু সাহেব আলীর মুখে বা শরীরে প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগ। এরপর ধীরে ধীরে জ্ঞান হারাতে শুরু করেন তিনি। চালক অচেতন হয়ে পড়ার পর তাঁকে রাস্তার কোনও একটি জায়গায় ফেলে রেখে তাঁর টোটো নিয়ে পালিয়ে যায় ওই যাত্রীরা। শুধু টোটো নয়, সাহেব আলীর পকেটে থাকা প্রায় দু’হাজার টাকাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে পরিবারের দাবি। পরে অচেতন অবস্থায় সাহেব আলীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকে প্রায় দু’দিন কেটে গেলেও এখনও তাঁর জ্ঞান ফেরেনি।
তবে ঠিক কী ধরনের পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছিল, কোথায় তাঁকে অচেতন করা হয় এবং কারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুরো ঘটনায় তৈরি হয়েছে রহস্য। অভিযুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে টোটো উদ্ধার করার দাবি জানিয়েছে সাহেব আলীর পরিবার। পাশাপাশি এই ঘটনার পর যাত্রী নিয়ে রাস্তায় চলাচল করা টোটো চালকদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন