নয়াদিল্লি: বিচারবিভাগকে বাইরে থেকে প্রভাবিত করার বা 'চাপ সৃষ্টি' করার যে কোনও চেষ্টা যে সম্পূর্ণ ব্যর্থ, তা স্পষ্ট ও কড়া ভাষায় জানিয়ে দিলেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। নির্বাচন কমিশনের 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে বিরোধী জোটে করা আবেদন এবং নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রিক বিক্ষোভের আবহ নিয়ে শুনানি চলাকালীন প্রবীণ আইনজীবী গৌরব ভাটিয়ার মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই বিচারপতির এই মন্তব্য। একই দিনে দিল্লির প্রাণকেন্দ্র যন্তর মন্তরকে ধরণামঞ্চ হিসেবে বাতিলের কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা মামলায় কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করল শীর্ষ আদালত।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর সংক্রান্ত এক গুচ্ছ আবেদনের শুনানি ছিল। আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে-সহ 'ইন্ডিয়া' জোটের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব।
শুনানির শুরুতেই আইনজীবী গৌরব ভাটিয়া আদালত চত্বর ও রাজপথে হওয়া রাজনৈতিক মিছিল-বিক্ষোভের প্রসঙ্গ তুলে দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টকে প্রভাবিত করা বা চমকানোর চেষ্টা চলছে। প্রায় ২০০ জন আইনজীবী এ বিষয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন বলেও তিনি জানান।
ভাটিয়ার আর্জি শুনে স্পষ্ট ভাষায় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, "কাউকে চমকে-ধমকে রাখা অসম্ভব। আদালতের বাইরে কী ঘটছে, সে বিষয়ে বিচারপীঠ সম্পূর্ণ সচেতন। আমরা কোনও আইভরি টাওয়ার বা কাঁচের ঘরে বসে নেই। এই ধরনের দুর্বল চেষ্টায় আদালত কান দেয় না।"
তবে একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধী ও খড়গেদের করা মূল আবেদনগুলিতে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রকে নোটিস জারি করেছে শীর্ষ আদালত। ভোটার তালিকা থেকে বেআইনি নাম ছাঁটাই বন্ধ করা, তালিকায় স্বচ্ছতা আনা এবং নিরপেক্ষ অডিটের যে দাবি বিরোধীরা তুলেছেন, তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে বেঞ্চ। সেই সঙ্গে কমিশনের বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভ সংক্রান্ত সমস্ত ডিজিটাল ও সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দিল্লি পুলিশকে।
অন্য দিকে, দিল্লি পুলিশের তরফে গত ১১ অক্টোবর এক নির্দেশিকা জারি করে যন্তর মন্তরের ধরণামঞ্চের তকমা রদ করা হয়েছিল। তার বদলে রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং সিবিডি গ্রাউন্ডকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। কেন্দ্র ও পুলিশের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতে আবেদন জমা পড়েছিল।
বৃহস্পতিবার কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে এ বিষয়ে জবাব তলব করে নোটিস দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, "আমরা জবাব তলব করছি। সেই জবাবে সন্তুষ্ট না হলে আইন নিজের পথে চলবে।"

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন