কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতার দুর্গাপুজোর মানচিত্রে ‘নাকতলা উদয়ন সংঘ’ বললেই একসময় চোখের সামনে ভেসে উঠত রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা ও শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অবয়ব। পুজো কমিটির সর্বেসর্বা হিসেবে তাঁর দাপট আর জাঁকজমকই ছিল এই মণ্ডপের মূল পরিচয়।
তবে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে মন্ত্রীর জেলবন্দি হওয়া এবং আইনি টানাপোড়েনের পর, সেই পুরনো সমীকরণ আজ অতীত। রাজনৈতিক ছায়া মুছে ফেলা ও আমূল পালাবদলের পর, ৪০তম বর্ষের পদার্পণে কেমন সাজল ঐতিহ্যবাহী নাকতলা উদয়ন সংঘের পুজো? শারদোৎসবের আনন্দধারায় গা ভাসিয়ে সেই উত্তর খুঁজতেই সপ্তমীর রোদে মণ্ডপ চত্বরে নামল উপচে পড়া ভিড়।
রাজনৈতিক পালাবদলের পর চলতি বছরেও নিজেদের পুরনো ঐতিহ্য ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার জোরে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ল এই ক্লাব। উদয়ন সংঘের ৪০তম বর্ষের ভাবনায় উঠে এসেছে ‘কালোধবনি’। বাঙালি জাতির জীবন প্রবাহ ও সময়ের দলিল যে পঞ্জিকা, তাকে কেন্দ্র করেই এবার গড়ে উঠেছে পুরো মণ্ডপ। যুগ যুগ ধরে বাঙালির শুভকাজ, ব্যবসা থেকে চাষবাস, বিবাহ থেকে অন্নপ্রাশন, সব কিছুরই নির্দেশক এই পঞ্জিকা। সেই পঞ্জিকার উৎস, বিবর্তন এবং দৈনন্দিন জীবনে তার অপরিসীম গুরুত্বকে পরম দক্ষতায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মণ্ডপের আনাচে-কানাচে।
মণ্ডপে প্রবেশ করলেই চোখ জুড়িয়ে যায় পুরোনো পঞ্জিকার পাতা, মুদ্রিত চিঠি, ঐতিহ্যবাহী অলঙ্করণ এবং বিলুপ্তপ্রায় কাঠখোদাই মুদ্রণশৈলীর সূক্ষ্ম কারুকাজে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল দুনিয়ার ভিড়ে পঞ্জিকার পাতা উল্টানোর অভ্যাসে ধুলো জমলেও, নাকতলার এই থিম আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে বাংলার নিজস্ব বিশ্বাস, কৃষ্টি ও সময়ের ঐতিহ্যকে। বিজ্ঞাপনের পুরোনো রূপ থেকে শুরু করে পঞ্জিকার পাতায় লুকিয়ে থাকা গল্প—সবই দর্শনার্থীদের এক পরিচিত কিন্তু হারিয়ে যাওয়া জগতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
রাজনীতির মেঘ কেটে যাওয়ার পর নাকতলার পুজো তার চেনা মেজাজেই ফিরেছে। সকাল থেকেই চড়া রোদ ও ভ্যাপসা গরমকে উপেক্ষা করে প্রবীণ থেকে শুরু করে জেন-জি (Gen-Z) দর্শনার্থীদের ভিড় জমেছে মণ্ডপে। অতীতে যেমন বর্ণময় ও চর্চিত থিমের জন্য খবরের শিরোনামে থাকত নাকতলা, ৪০ বর্ষে এসেও যে সেই আকর্ষণে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি, গিজগিজ করা জনসমুদ্রই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন