Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Nabapatrika Snan: কলাবউ স্নানের মধ্য দিয়ে বাংলা জুড়ে শুরু মহাসপ্তমীর পুজো, গঙ্গাতীরে পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
Nabapatrika Snan: কলাবউ স্নানের মধ্য দিয়ে বাংলা জুড়ে শুরু মহাসপ্তমীর পুজো, গঙ্গাতীরে পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড়
জেলার ঘাটে কলা বউ স্নান। নিজস্ব ছবি

কলকাতা: ঢাকের কাঠি আর উদাত্ত বেদমন্ত্রোচ্চারণে শরতের শিশিরভেজা ভোরে দেবী দুর্গার আবাহনে মেতে উঠল গোটা বাংলা। 

শনিবার মহাসপ্তমীর শুভ লগ্নে প্রথা ও সনাতন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো দুর্গোৎসবের অন্যতম প্রধান আচার ‘নবপত্রিকা’ বা কলাবউ স্নান। আর এই স্নানপর্বের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতা থেকে জেলা, রাজ্য জুড়ে সূচনা হলো মহাসপ্তমীর মূল পুজো পরিক্রমার।

শনিবার ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই গঙ্গার ঘাটে ঘাটে উপচে পড়ে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড়। কলকাতার বাজার কলকাতা ঘাট, বাযব ঘাট থেকে শুরু করে হাওড়ার ঐতিহ্যবাহী রামকৃষ্ণপুর ঘাটে ভোরের শুরুতেই আছড়ে পড়ে হাজার হাজার মানুষের ঢল। 

শরতের স্নিগ্ধ প্রভাতে ঢাকের বোল, কাঁসরের ধ্বনি এবং শঙ্খনাদে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রতিটি গঙ্গাঘাট। সনাতন বিধি মেনে নবপত্রিকাকে লালপাড় সাদা শাড়িতে মুড়ে, পুণ্য গঙ্গাজলে স্নান করানো হয়। নবপত্রিকার নয়টি বিশেষ উদ্ভিদ, কলা, কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বিল্ব, দাড়িম্ব, অশোক, মান ও ধান, দেবী দুর্গার নয়টি রূপের প্রতীক হিসেবে স্নান করানো শেষ হতেই ধূপ-দীপ আর আরতির মধ্য দিয়ে দেবীর প্রাণপ্রতিষ্ঠার পর্ব শুরু হয়।

রামকৃষ্ণপুর ঘাট-সহ গঙ্গার দু’পারের ঘাটগুলিতে এই ঐতিহ্যবাহী স্নানযাত্রা দেখতে কেবল শহর নয়, আশপাশের দূর-দূরান্তের গ্রাম ও মফস্বল থেকেও বহু পুণ্যার্থী এসে ভিড় জমান। গঙ্গার পুণ্যতোয়া জলে ডুব দিয়ে পুজো নিবেদন করতে দেখা যায় বহু দর্শনার্থীকে। গঙ্গাতীর থেকে স্নান সেরে নবপত্রিকাকে কাঁধে নিয়ে সুসজ্জিত শোভাযাত্রা সহকারে মণ্ড অভিমুখে রওনা দেন বিভিন্ন পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা। এর পরেই মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু হয়ে যায় বিহিত পুজো ও চণ্ডীপাঠ।

উৎসবের এই বিশেষ মুহূর্তে গঙ্গাঘাটগুলিতে পুণ্যার্থীদের বাড়তি সুরক্ষার স্বার্থে হাওড়া ও কলকাতা পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারির বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘাটে ঘাটে মোতায়েন রাখা হয়েছে সিভিল ডিফেন্সের স্বেচ্ছাসেবক ও রিভার পুলিশ। প্রস্তুত রাখা রয়েছে স্পিডবোট ও ডুবুরি দল। ভক্তদের ভক্তিভাব, ঢাকের গর্জন আর গঙ্গার পাড়ে মানুষের এই উৎসবমুখর উপস্থিতি প্রমাণ করে দিল, সপ্তমীর সকালে কলাবউ স্নানের আবহেই চারিয়ে গিয়েছে শারদোৎসবের আসল আনন্দধারা।

বিষয় : #MahaSaptami #NabapatrikaSnan #KolabouSnan #DurgaPuja2026 #KolkataDurgaPuja #RamkrishnapurGhat #GangaGhat #BengaliFestival #HiddenStoriesNews #Sharadotsav

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


Nabapatrika Snan: কলাবউ স্নানের মধ্য দিয়ে বাংলা জুড়ে শুরু মহাসপ্তমীর পুজো, গঙ্গাতীরে পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
কলকাতা: ঢাকের কাঠি আর উদাত্ত বেদমন্ত্রোচ্চারণে শরতের শিশিরভেজা ভোরে দেবী দুর্গার আবাহনে মেতে উঠল গোটা বাংলা। শনিবার মহাসপ্তমীর শুভ লগ্নে প্রথা ও সনাতন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো দুর্গোৎসবের অন্যতম প্রধান আচার ‘নবপত্রিকা’ বা কলাবউ স্নান। আর এই স্নানপর্বের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতা থেকে জেলা, রাজ্য জুড়ে সূচনা হলো মহাসপ্তমীর মূল পুজো পরিক্রমার।শনিবার ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই গঙ্গার ঘাটে ঘাটে উপচে পড়ে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড়। কলকাতার বাজার কলকাতা ঘাট, বাযব ঘাট থেকে শুরু করে হাওড়ার ঐতিহ্যবাহী রামকৃষ্ণপুর ঘাটে ভোরের শুরুতেই আছড়ে পড়ে হাজার হাজার মানুষের ঢল। শরতের স্নিগ্ধ প্রভাতে ঢাকের বোল, কাঁসরের ধ্বনি এবং শঙ্খনাদে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রতিটি গঙ্গাঘাট। সনাতন বিধি মেনে নবপত্রিকাকে লালপাড় সাদা শাড়িতে মুড়ে, পুণ্য গঙ্গাজলে স্নান করানো হয়। নবপত্রিকার নয়টি বিশেষ উদ্ভিদ, কলা, কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বিল্ব, দাড়িম্ব, অশোক, মান ও ধান, দেবী দুর্গার নয়টি রূপের প্রতীক হিসেবে স্নান করানো শেষ হতেই ধূপ-দীপ আর আরতির মধ্য দিয়ে দেবীর প্রাণপ্রতিষ্ঠার পর্ব শুরু হয়।রামকৃষ্ণপুর ঘাট-সহ গঙ্গার দু’পারের ঘাটগুলিতে এই ঐতিহ্যবাহী স্নানযাত্রা দেখতে কেবল শহর নয়, আশপাশের দূর-দূরান্তের গ্রাম ও মফস্বল থেকেও বহু পুণ্যার্থী এসে ভিড় জমান। গঙ্গার পুণ্যতোয়া জলে ডুব দিয়ে পুজো নিবেদন করতে দেখা যায় বহু দর্শনার্থীকে। গঙ্গাতীর থেকে স্নান সেরে নবপত্রিকাকে কাঁধে নিয়ে সুসজ্জিত শোভাযাত্রা সহকারে মণ্ড অভিমুখে রওনা দেন বিভিন্ন পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা। এর পরেই মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু হয়ে যায় বিহিত পুজো ও চণ্ডীপাঠ।উৎসবের এই বিশেষ মুহূর্তে গঙ্গাঘাটগুলিতে পুণ্যার্থীদের বাড়তি সুরক্ষার স্বার্থে হাওড়া ও কলকাতা পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারির বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘাটে ঘাটে মোতায়েন রাখা হয়েছে সিভিল ডিফেন্সের স্বেচ্ছাসেবক ও রিভার পুলিশ। প্রস্তুত রাখা রয়েছে স্পিডবোট ও ডুবুরি দল। ভক্তদের ভক্তিভাব, ঢাকের গর্জন আর গঙ্গার পাড়ে মানুষের এই উৎসবমুখর উপস্থিতি প্রমাণ করে দিল, সপ্তমীর সকালে কলাবউ স্নানের আবহেই চারিয়ে গিয়েছে শারদোৎসবের আসল আনন্দধারা।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত