Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Indo-US: মোদীর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ট্রাম্পের দেশে! মার্কিন মুলুকে ইতিহাসের বৃহত্তম ইস্পাত কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Indo-US: মোদীর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ট্রাম্পের দেশে! মার্কিন মুলুকে ইতিহাসের বৃহত্তম ইস্পাত কারখানা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ওয়াশিংটন: মোদীর ভারতের তৈরি শিল্পক্ষেত্র এবার নতুন ইতিহাস লিখতে চলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। খোদ হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে দাঁড়িয়ে দুই ভারতীয় শিল্পপতিকে পাশে বসিয়ে এক ঐতিহাসিক মেগা-প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার বুকে গড়ে উঠতে চলেছে সে দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম ইস্পাত কারখানা। আর এই অভাবনীয় রেকর্ডের কারিগর আর কেউ নয়, ভারতের অন্যতম প্রথম সারির শিল্পগোষ্ঠী ‘এসার গ্রুপ’ (Essar Group)।

সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাসভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এসার গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি রুইয়া এবং তাঁর পুত্র রেবন্ত রুইয়ার উপস্থিতি নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক মহলের। সেখানে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, “আজ অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমেরিকার ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ইস্পাত কারখানাটি তৈরি হতে চলেছে আইওয়া প্রদেশে। এটি শুধু আমেরিকার বৃহত্তম নয়, সারা বিশ্বের অন্যতম সেরা ও বিশাল কারখানা হতে চলেছে।”

খাতায়-কলমে এসার গ্রুপের মার্কিন সাবসিডিয়ারি ‘মেসাবি মেটালিক্‌স’ (Mesabi Metallics)-এর মাধ্যমে পরিচালিত হবে এই প্রকল্প। ভারতীয় মুদ্রায় যার বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় দেড় লক্ষ কোটি টাকা (১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এর মধ্যে শুধুমাত্র আইওয়ার স্টিল প্ল্যান্টেই বরাদ্দ ১৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১.৪৩ লক্ষ কোটি টাকা)। মার্কিন মুলুকে ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ আমদানিকৃত স্টিল শুল্কের নীতির পথ ধরেই ভারতের এই বিপুল আন্তর্জাতিক বাজি।

হোয়াইট হাউস সূত্রের খবর, ২০৩০ সালের মধ্যে এই কারখানায় পুরোদমে উৎপাদন শুরু করার মেগা-টার্গেট নেওয়া হয়েছে। কারখানাটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে প্রতি বছর গড়ে ১ কোটি টন (১০ মিলিয়ন টন) ইস্পাত উৎপন্ন হবে। স্থানীয় আইওয়া প্রদেশে কর্মসংস্থান হবে অন্তত ১৭৫০ জন মার্কিন নাগরিকের। পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, কাঁচামাল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ইস্পাত উৎপাদন, সবটাই সম্পন্ন হবে মার্কিন ভূখণ্ডে।

এই সমন্বিত সাপ্লাই চেনের জন্য লৌহ আকরিক আসবে মিনেসোটা প্রদেশের এক নতুন খনি থেকে। আড়াই কোটি ডলার বিনিয়োগে গড়ে তোলা এই খনি প্রকল্প থেকেও বার্ষিক ৭৫ লক্ষ টন লোহা উত্তোলিত হবে। 

মার্কিন প্রেস সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৫০ বছরে এই প্রথম আমেরিকার মাটিতে নতুন কোনও খনি থেকে খনিজ নিষ্কাশন শুরু হতে চলেছে, যা সে দেশের প্রতিরক্ষা, গাড়ি নির্মাণ, জাহাজ শিল্প থেকে শুরু করে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে এক নতুন রূপান্তর আনবে।

অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের পাশে ছিলেন মার্কিন বাণিজ্যসচিব হাওয়ার্ড লুটনিক এবং শক্তি দফতরের সচিব ক্রিস রাইটের মতো শীর্ষ কর্তারা। মেসাবি মেটালিক্‌সের চেয়ারম্যান রেবন্ত রুইয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমেরিকায় পুনরায় উৎপাদনের জোয়ার ফিরিয়ে আনার জন্য এবং নির্মাণশিল্পকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।” 

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মোদী জমানায় ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বিশ্বমঞ্চে এই ধরনের দাপুটে পদচারণা এবং মার্কিন অর্থনীতির চালিকাশক্তি হয়ে ওঠা আদতে বিশ্ব বাণিজ্যচিত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান একচ্ছত্র প্রভাবকেই পুনর্ব্যক্ত করছে।

বিষয় : #HiddenStoriesNews #Trump #EssarGroup #MakeInIndia #USSteelPlant #DonaldTrump #IowaSteelPlant #RaviRuia #RewantRuia #IndianBusinessInUS #GlobalEconomy

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


Indo-US: মোদীর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ট্রাম্পের দেশে! মার্কিন মুলুকে ইতিহাসের বৃহত্তম ইস্পাত কারখানা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
ওয়াশিংটন: মোদীর ভারতের তৈরি শিল্পক্ষেত্র এবার নতুন ইতিহাস লিখতে চলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। খোদ হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে দাঁড়িয়ে দুই ভারতীয় শিল্পপতিকে পাশে বসিয়ে এক ঐতিহাসিক মেগা-প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার বুকে গড়ে উঠতে চলেছে সে দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম ইস্পাত কারখানা। আর এই অভাবনীয় রেকর্ডের কারিগর আর কেউ নয়, ভারতের অন্যতম প্রথম সারির শিল্পগোষ্ঠী ‘এসার গ্রুপ’ (Essar Group)।সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাসভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এসার গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি রুইয়া এবং তাঁর পুত্র রেবন্ত রুইয়ার উপস্থিতি নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক মহলের। সেখানে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, “আজ অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমেরিকার ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ইস্পাত কারখানাটি তৈরি হতে চলেছে আইওয়া প্রদেশে। এটি শুধু আমেরিকার বৃহত্তম নয়, সারা বিশ্বের অন্যতম সেরা ও বিশাল কারখানা হতে চলেছে।”খাতায়-কলমে এসার গ্রুপের মার্কিন সাবসিডিয়ারি ‘মেসাবি মেটালিক্‌স’ (Mesabi Metallics)-এর মাধ্যমে পরিচালিত হবে এই প্রকল্প। ভারতীয় মুদ্রায় যার বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় দেড় লক্ষ কোটি টাকা (১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এর মধ্যে শুধুমাত্র আইওয়ার স্টিল প্ল্যান্টেই বরাদ্দ ১৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১.৪৩ লক্ষ কোটি টাকা)। মার্কিন মুলুকে ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ আমদানিকৃত স্টিল শুল্কের নীতির পথ ধরেই ভারতের এই বিপুল আন্তর্জাতিক বাজি।হোয়াইট হাউস সূত্রের খবর, ২০৩০ সালের মধ্যে এই কারখানায় পুরোদমে উৎপাদন শুরু করার মেগা-টার্গেট নেওয়া হয়েছে। কারখানাটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে প্রতি বছর গড়ে ১ কোটি টন (১০ মিলিয়ন টন) ইস্পাত উৎপন্ন হবে। স্থানীয় আইওয়া প্রদেশে কর্মসংস্থান হবে অন্তত ১৭৫০ জন মার্কিন নাগরিকের। পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, কাঁচামাল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ইস্পাত উৎপাদন, সবটাই সম্পন্ন হবে মার্কিন ভূখণ্ডে।এই সমন্বিত সাপ্লাই চেনের জন্য লৌহ আকরিক আসবে মিনেসোটা প্রদেশের এক নতুন খনি থেকে। আড়াই কোটি ডলার বিনিয়োগে গড়ে তোলা এই খনি প্রকল্প থেকেও বার্ষিক ৭৫ লক্ষ টন লোহা উত্তোলিত হবে। মার্কিন প্রেস সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৫০ বছরে এই প্রথম আমেরিকার মাটিতে নতুন কোনও খনি থেকে খনিজ নিষ্কাশন শুরু হতে চলেছে, যা সে দেশের প্রতিরক্ষা, গাড়ি নির্মাণ, জাহাজ শিল্প থেকে শুরু করে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে এক নতুন রূপান্তর আনবে।অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের পাশে ছিলেন মার্কিন বাণিজ্যসচিব হাওয়ার্ড লুটনিক এবং শক্তি দফতরের সচিব ক্রিস রাইটের মতো শীর্ষ কর্তারা। মেসাবি মেটালিক্‌সের চেয়ারম্যান রেবন্ত রুইয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমেরিকায় পুনরায় উৎপাদনের জোয়ার ফিরিয়ে আনার জন্য এবং নির্মাণশিল্পকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।” আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মোদী জমানায় ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বিশ্বমঞ্চে এই ধরনের দাপুটে পদচারণা এবং মার্কিন অর্থনীতির চালিকাশক্তি হয়ে ওঠা আদতে বিশ্ব বাণিজ্যচিত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান একচ্ছত্র প্রভাবকেই পুনর্ব্যক্ত করছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত