নয়াদিল্লি: ৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে উড়ন্ত বিমানে আচমকা ককপিটের ভেতরেই রক্তাক্ত হামলা! সহকর্মীর প্রাণঘাতী ছুরিকাঘাত খেয়ে শরীরে রক্তে ভেসে গেলেও বিমানের রাশ ছাড়েননি তিনি। অদম্য সাহসিকতা দেখিয়ে মাঝ-আকাশে ১৮০ জন যাত্রীর নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ছিনিয়ে আনলেন জীবন। দুবাই থেকে ইজ়রায়েলের তেল আভিভগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর বিমানে ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের এই অভূতপূর্ব বীরত্বে আজ মুগ্ধ গোটা বিশ্ব। এই অসীম সাহসকে কুর্নিশ জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একযোগে তাঁকে ‘সত্যিকারের নায়ক’ বলে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
বুধবার ‘ফ্লাইদুবাই’-এর বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি দুবাই থেকে যাত্রা শুরু করার পর মাঝ-আকাশে আচমকা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। অভিযোগ, ককপিটের ভিতরেই সহকারী পাইলট আচমকা মূল ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকেন। হামলার চোটে বিমানটি চোখের পলকে ১৭ হাজার ৪০০ ফুট নিচে নেমে আসে। রক্তে ভেসে যেতে থাকে পুরো ককপিট। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নিশ্চিত ভাবেই বিমান হাইজ্যাক করে ৯/১১-র মতো ভয়াবহ সন্ত্রাসী ছক কষা হয়েছিল। কিন্তু রক্তাত অবস্থায় প্রবল মানসিক জোর দেখিয়ে লড়ে যান স্মিত। তিনি দ্রুত ককপিটের দরজা খুলে দিলে যাত্রীদের মধ্যে থাকা অন্যান্য পাইলট ও বিমানকর্মীরা ভেতরে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করেন।
পরবর্তীকালে মারাত্মক জখম অবস্থায় বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান স্মিত। হামলাকারীকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং গুরুতর জখম স্মিত আপাতত সৌদির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর এই অসামান্য অবদানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লেখেন, ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর একজন আসল বীর। ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে গুরুতর জখম হয়েও তিনি অসীম সাহসিকতা দেখিয়ে অগণিত প্রাণ রক্ষা করেছেন, যার জন্য আজ পুরো ভারত গর্বিত। অন্যদিকে ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্মিতকে অভিবাদন জানিয়ে বলেন, মারাত্মক আহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ায় বড় বিপর্যয় এড়ানো গিয়েছে। হোয়াইট হাউস থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই সাহসী পদক্ষেপকে ‘বিস্ময়কর’ বলে উল্লেখ করেন।
গুজরাতি বংশোদ্ভূত ও ১১ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই পাইলটের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণেই আজ বেঁচে গিয়েছে বহু ইজরায়েলি নাগরিক-সহ ১৮০ জন যাত্রীর প্রাণ। সৌদিতে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, বর্তমানে হাসপাতালে স্মিতের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। চরম মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও নিজের ডিউটিতে অবিচল থেকে তিনি প্রমাণ করে দিলেন, দায়িত্ববোধ ও সাহসের চেয়ে বড় শক্তি আর কিছুই হতে পারে না।

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন