হাওড়া: পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত ও ঐতিহাসিক হাওড়া স্টেশনের চেনা ছবিটা এবার সম্পূর্ণ বদলে যেতে চলেছে। নোংরা জল, অপরিচ্ছন্ন দেওয়াল আর ভিড়ের ঠ্যালাঠেলির দিন এবার অতীত হতে চলেছে নিত্যযাত্রীদের জন্য। প্রায় ২৪ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা বিশাল ব্যয়ে হাওড়া স্টেশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেন সাবওয়ে এবং ফেরিঘাট সাবওয়েকে একেবারে নতুন সাজে ঝাঁ-চকচকে করে তোলার মহা-পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী উমেশ রাইয়ের নেতৃত্বে আয়োজিত জেলা প্রশাসনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে এই মেগা মেকওভারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে হাওড়ার জেলাশাসক, পুর কমিশনার, রেলের এসডিসিএম এবং কেএমডিএ-র সিইও-সহ প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রেলওয়ে স্টেশন, কলকাতা মেট্রো, বাস টার্মিনাস এবং ফেরিঘাটের মধ্যে কয়েক লক্ষ মানুষের যাতায়াতের প্রধান সংযোগকারী ৩৫০ মিটার দীর্ঘ মেন সাবওয়ে ও ৫০ মিটার দীর্ঘ ফেরিঘাট সাবওয়ের পরিকাঠামো আমূল বদলে ফেলা হবে। সাবওয়ের মেঝের পাশাপাশি পুরানো দেওয়ালে বসানো হবে চোখধাঁধানো উন্নত মানের গ্রানাইট পাথর। মাথার ওপরের ছাদে থাকবে আধুনিক পিভিসি প্যানেল। যাত্রীদের চোখ ধাঁধাতে থাকবে ঝকঝকে আধুনিক আলো, স্পষ্ট ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড, আধুনিক পথ নির্দেশিকা, ওয়াল আর্ট এবং সুনির্দিষ্ট জল নিকাশি ব্যবস্থা। সাবওয়েতে প্রবেশের মুখে তৈরি হবে স্টিল ও কাচের দৃষ্টিনন্দন নান্দনিক ছাউনি।
যাত্রীদের সুবিধার্থে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তাতেও। সম্পূর্ণ সাবওয়ে চত্বর মুড়ে ফেলা হবে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে। অগ্নিনির্বাপণের জন্য বসানো হবে অত্যাধুনিক ফায়ার ও স্মোক অ্যালার্ম সিস্টেম। সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে ৬ ও ৯ নম্বর গেটের পাশাপাশি ফেরিঘাট সাবওয়েতে বসানো হতে চলেছে মোট চারটি আধুনিক এসকেলেটর বা চলমান সিঁড়ি, যা প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের পথচলাকে অবিশ্বাস্যরকম সহজ করে তুলবে। এ ছাড়া বর্ষার দিনে সাবওয়েতে জল জমার ভোগান্তি চিরতরে মেটাতে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিশাল পাম্প। যাত্রী সুবিধার এই মহা-যজ্ঞ সম্পন্ন হলে হাওড়া স্টেশনের সাবওয়ে আর পাঁচটা আন্তর্জাতিক মানের রূপ পাবে বলে আশা প্রকাশ করছে ওয়াকিবহাল মহল।

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন