রেজিনগরে বুথ-ধাঁধা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে অভিষেকের পোস্ট, তথ্য তুলে ‘ভুল’ প্রমাণ করল কমিশন!
নয়াদিল্লি ও কলকাতা: উপনির্বাচনের ভোটগণনা শেষ হতেই নতুন করে শুরু হল নজিরবিহীন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক জলঘোলা। মুর্শিদাবাদের রেজিনগর কেন্দ্রের একটি নির্দিষ্ট বুথে মোট ভোটার সংখ্যার চেয়ে নাকি বিজেপি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট বেশি!
এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে সমাজমাধ্যমে সোচ্চার হয়েছিলেন মমতা তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই কড়া তথ্যকে সামনে এনে অভিষেকের সমস্ত দাবিকে স্রেফ ‘ভুল ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়ে খারিজ করে দিল রাজ্য ও দেশের নির্বাচন কমিশন।
অন্যদিকে, এই আইনি লড়াইয়ের মাঝেই ভোটের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট জানালেন, সমস্ত অপপ্রচার ভেস্তে দিয়ে রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু সমাজ এবার সরাসরি বিজেপির হাত ধরেছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রেজিনগরের গণনাসংক্রান্ত যে পরিসংখ্যান সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ, তা ছিল বাস্তব ও অফিসিয়াল তথ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের তরফে কড়া বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, সংবাদমাধ্যমে ঘুরতে থাকা ভুল সংখ্যা যাচাই না করেই দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছিল। কমিশন সাফ জানায়, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গেই পুরো ভোটপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং কোথাও কোনো অতিরিক্ত ভোটের অসঙ্গতি মেলেনি।
এদিকে, কমিশনের এই জবাবে বিরোধী শিবিরের অভিযোগ ফিকে হতেই উপনির্বাচনের অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সমীকরণ সামনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উল্লেখ্য, রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭০ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতে এক নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছেন। অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪২৭ ভোট পেয়ে মোট ১ লক্ষ ২২ হাজার ৭৫৩ ভোটের বিরাট ফারাকে জয়ী হন। যা রাজ্যে আগে ঘটে যাওয়া 'ফলতা মডেল'-এর ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটের রেকর্ডকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে। এদিকে দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরে, বাংলার জোড়া বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফলকে তাচ্ছিল্যের সঙ্গে উড়িয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, “এটা কোনও ভোট হয়েছে যে, ফল নিয়ে বলব। এরা ঠিক মতো ছাপ্পাও মারতে পারে না!”
এই বিপুল জয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি তুলে ধরেন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ এবং মুসলিম সমাজের সঙ্গে তৈরি হওয়া নতুন বন্ধুত্বের সমীকরণ। তিনি বলেন, “বিভাজনের রাজনীতিতে পা না দিয়ে রেজিনগরের প্রায় ৭০ শতাংশ মুসলিম ভোটাররা এবার উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন। নন্দীগ্রামের ৭০ হাজার ৩০০ এবং রেজিনগরের প্রায় ৭০ হাজার অন্নপূর্ণা যোজনা প্রাপক মহিলারা সপরিবারে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে বিজেপি-কে ভোট দিয়েছেন। রেজিনগরের ৩৫ হাজার সংখ্যালঘু অন্নপূর্ণাপ্রাপক দিদি-বোনেরা যদি পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের ভোট না দিতেন, তবে এত বড় ঐতিহাসিক জয় কখনই সম্ভব হত না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একসময়ের একচেটিয়া বিরোধী ভোটব্যাঙ্কে এবার বড়সড় থাবা বসিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিরোধীরা এই জয়কে 'ভোটলুট' বলে কটাক্ষ করলেও, একদিকে কমিশনের কড়া জবাবে অভিষেকের ব্যাকফুটে চলে যাওয়া এবং অন্যদিকে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরে বিজেপির দাপুটে জয়— বঙ্গ রাজনীতির বহু পুরোনো সমীকরণকে একলহমায় পাল্টে দিল।

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন