কলকাতা: ভোটের উত্তাপের মাঝেই বেয়াড়া মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামে নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন তাঁর বেশ কিছু বক্তব্যকে ‘সাম্প্রদায়িক’ ও ‘বিদ্বেষমূলক’ আখ্যা দিয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগ উঠেছে, মুসলিম সম্প্রদায় এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়ার নামে আদতে আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বিজেপি নেতা।
তৃণমূলের দাবি, নন্দীগ্রামে একটি রোড শো চলাকালীন শুভেন্দু অধিকারীকে বলতে শোনা গিয়েছে, “পাশে মোল্লা আছে, সাবধান!” এছাড়াও অভিযোগ, তিনি নন্দীগ্রামের মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকদের রীতিমতো হুমকি দিয়েছেন। একটি ভিডিয়োর সূত্র দিয়ে তৃণমূল জানিয়েছে, শুভেন্দু বলেছেন, “নন্দীগ্রামের মুসলমান পরিযায়ী শ্রমিকদের ব্যবহার ঠিক করতে হবে। না হলে ৪ মে-র পর দেখে নেব।” এখানেই শেষ নয়, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে ‘নাকে লঙ্কার গুঁড়ো ঘষে’ দেওয়ার মতো চরম বদলা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি!
এই ঘটনার প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশনকে মোট তিনটি চিঠি দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন তাঁর চিঠিতে অভিযোগ করেছেন, শুভেন্দু ভোটারদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছেন এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিচ্ছেন। তৃণমূলের দাবি, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৭১, ১৯৬, ২৯৯ এবং ৩৫১-এর মতো একাধিক ধারায় শুভেন্দুর এই মন্তব্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হওয়া উচিত।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে শোকজ করার আবেদন জানানো হয়েছে। তাদের দাবি, বিরোধী দলনেতা আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধির ৪.৩.১ ধারা এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৩(৩এ) ধারা লঙ্ঘন করেছেন। পরবর্তী সময়ে তিনি যাতে এই ধরনের কোনও মন্তব্য করতে না পারেন, তার জন্য কমিশনকে কড়া পদক্ষেপ করার আর্জি জানানো হয়েছে।
ভোটের মুখে নন্দীগ্রামের এই রাজনৈতিক চাপানউতোর কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার। তৃণমূলের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিশন শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহলও।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন