বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড়সড় পটপরিবর্তনের পর এবার পুলিশের জালে শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘসময়ের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী তথা জাতীয় সংসদের প্রাক্তন স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল, ২০২৬) ভোরে ঢাকার ধানমন্ডিতে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাধারণ মানুষের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা লালবাগ থানার একটি মামলায় তাঁকে ৩ নম্বর আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই মামলার ১ নম্বর আসামি খোদ শেখ হাসিনা এবং ২ নম্বর আসামি ওবায়দুল কাদের।
২০১৩ সাল থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা চার মেয়াদে বাংলাদেশের প্রথম মহিলা স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন শিরিন শারমিন। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা দেশ ছাড়লেও শিরিন প্রথমে পদত্যাগ করেননি। পরে সেপ্টেম্বরের শুরুতে চাপের মুখে তিনি ইস্তফা দেন। পুলিশ সূত্রে খবর, শিরিন শারমিনের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকার বনানী ও উত্তরা থানার পাশাপাশি রংপুরেও খুনের মামলাসহ একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মঙ্গলবার গ্রেপ্তারের পর তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
শিরিন শারমিনের এই গ্রেপ্তারির ঘটনায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায় এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির বিপুল জয়ের পর কি বাংলাদেশে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ অব্যাহত রয়েছে?
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরেই একটি বিশেষ আদালতে শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ইউনুস জমানার পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলেও প্রশাসনে জামাত-শিবিরের প্রভাব এখনও প্রবল। প্রাক্তন স্পিকারের এই গ্রেপ্তার কি শুধুই আইনি প্রক্রিয়া, নাকি আওয়ামি লিগের শেষ চিহ্নটুকু মুছে দেওয়ার রাজনৈতিক কৌশল—তা নিয়ে ওপার বাংলায় শুরু হয়েছে তীব্র তরজা।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন