নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ সংশোধনী’ (SIR) ড্রাইভের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে একদিকে যখন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর পূর্ণ সমর্থন পেলেন, ঠিক সেই দিনেই রাজধানী দিল্লিতে পা রেখে চরম হেনস্থা ও সাধারণ যাত্রীর রোষের মুখে পড়লেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
বুধবার ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক (IGI) বিমানবন্দরে নামতেই এক সহ-যাত্রী তাঁর আন্দোলন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে চাঁচাছোলা ভাষায় প্রশ্ন ছুড়ে দেন। যদিও কোনো সংঘাতের মধ্যে না গিয়ে হাত নেড়ে ও ‘থাম্বস আপ’ দেখিয়ে বিমানবন্দর ছেড়ে বেরিয়ে যান সিজেপি প্রধান। তবে রাহুল গান্ধীর মতো প্রথম সারির বিরোধী নেতার সমর্থন এবং একই দিনে বিমানবন্দরে এই কটূক্তির ঘটনা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।
ঠাকুমার মৃত্যুর কারণে গত ১০ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের নিজ শহরে গিয়েছিলেন অভিজিৎ। বুধবার সেখান থেকেই দিল্লি বিমানবন্দরে ফেরেন তিনি। কিন্তু টার্মিনাল থেকে বেরোনোর সময় এক ক্ষুব্ধ যাত্রী সরাসরি তাঁর দিকে তেড়ে গিয়ে চিৎকার করে বলতে থাকেন, “দেশটাকে কেন নষ্ট করছ ভাই? দেশের পরিবেশ কেন খারাপ করছ?” ওই ভিডিও নেটপাড়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং অশান্তি এড়াতে সঙ্গে সঙ্গে সিজেপি প্রধানের চারপাশে সুরক্ষাবলয় তৈরি করে নিরাপত্তা কর্মী ও স্থানীয় পুলিশ। বিমানবন্দরে এমন অনভিপ্রেত ঘটনার পরও অবশ্য নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন অভিজিৎ।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে যন্তর মন্তরে নাছোড় আন্দোলনে নেমে গত মঙ্গলবার গ্রেফতার হয়েছেন সিজেপি-র দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। পুলিশ তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে তিহার জেলে পাঠিয়েছে।
এই গ্রেফতারির পরই সিজেপি-র ছাত্র ও যুব আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে আন্দোলনরত যুবদের জেলে পোড়াকে ‘কাপুরুষতা’ বলে দাগিয়ে দিয়ে রাহুল প্রতিশ্রুতি দেন, বিরোধীরা নাগরিকদের জন্য যন্তর মন্তরকে আবার ফিরিয়ে আনবে।
রাহুলের এই জোরালো সমর্থনের পরই মোদী সরকারকে ব্রিটিশ শাসনের সঙ্গে তুলনা করেন অভিজিৎ দীপকে। তিহার জেলে থাকা সহকর্মীদের সমর্থনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা কি এ দেশে এখন অপরাধ? সৌরভ আর আশুতোষকে পাঁচ দিন জেলে পাঠানো হলো কারণ তারা যন্তর মন্তরে তিরঙ্গা উড়িয়েছিল। পরাধীন ভারতে ব্রিটিশ আমলে ঠিক এভাবেই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গ্রেফতার করা হতো।”
উল্লেখ্য, পুলিশ যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলার পরও সেখানে ব্যারিকেড ভেঙে ঢোকার অভিযোগে সিজেপি নেতাদের গ্রেফতার করা হয়। একদিকে বিরোধীদের সংহতি আর অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, দুই মেরুর টানে এখন দিল্লির রাজপথে সিজেপি-র ‘ইলেকশন কমিশন ঠিক কর’ আন্দোলন এক অভূতপূর্ব মোড় নিল।

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন