পুরী: পুরী মানেই ভক্তদের প্রাণের জগন্নাথ দেব, নীল সমুদ্র আর জিব জল আনা মচমচে মহাপ্রসাদ খাজা। ওড়িশার এই পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে গিয়ে খাজার স্বাদ নেওয়া কিংবা বাড়ি ফেরার সময় আত্মীয়-স্বজনদের জন্য প্যাকেটে করে খাজা নিয়ে আসা যেন এক চিরাচরিত প্রথা। কিন্তু সেই খাজার ভেতরেই লুকিয়ে রয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি! ভক্ত ও পর্যটকদের স্বাস্থ্যের তোয়াক্কা না করে তৈরি করা হচ্ছিল নিম্নমানের ও ভেজাল খাজা। সম্প্রতি পুরীর মন্দির সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী এলাকা এবং স্বর্গোদ্বার সৈকতের খাজার দোকানগুলিতে বড়সড় সারপ্রাইজ অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ও ওড়িশা পুলিশ। সেই অভিযানে উদ্ধার হওয়া ভয়াবহ দৃশ্য দেখে চোখ কপালে উঠেছে আধিকারিকদের। চার কুইন্টালেরও বেশি অস্বাস্থ্যকর ও পচা খাজা নিমেষে ড্রেনে ফেলে নষ্ট করে দেওয়া হয়।পুলিশ ও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই পুরীর বাজারে আসা পর্যটকদের কাছে চড়া দামে নিম্নমানের ও ভুয়ো খাজা বিক্রি করার অভিযোগ আসছিল। ভক্তদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে শ্রী কৃষ্ণ সিনেমা লেন, বড়দণ্ড এবং স্বর্গদ্বারের মতো ব্যস্ততম এলাকায় আচমকাই হানা দেয় সিটি ডিএসপির নেতৃত্বে একটি বিশেষ পুলিশ দল ও খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকেরা। পুরীর পুলিশ সুপার প্রতীক সিং জানান, ভক্ত ঠকানোর চক্রান্ত রুখতেই এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে নেমে আধিকারিকেরা দেখেন, খাজা ভাজার জন্য একই তেল দিনের পর দিন পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছিল। খাজা ডুবিয়ে রাখার মিষ্টি রসটিও ছিল বহুদিনের পুরানো ও পচা। এমনকি অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাজা তৈরি হচ্ছিল।তদন্তকারীদের দাবি, মূল শ্রীমন্দিরের একদম কাছাকাছি থাকা চারটি বড় খাজার দোকান থেকেই এই বিপজ্জনক কারচুপি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। হাতে-নাতে অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় অভিযুক্ত দোকান মালিকদের কড়া ভাষায় সতর্ক করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে পুলিশ। অভিযান চলাকালীন দোকানগুলি থেকে প্রায় ৪ কুইন্টাল পচা খাজা বাজেয়াপ্ত করে সঙ্গে সঙ্গে ফেলে নষ্ট করে দেওয়া হয়। পুরী প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও হাজার হাজার বাঙালি পর্যটক এখন খাজা কেনার বিষয়ে চরম আতঙ্ক ও সংশয়ে ভুগছেন।