অসহায় মায়ের নিথর দেহ, পাশে ছটফট করছে সন্তান! আলিপুরদুয়ারে রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য
আলিপুরদুয়ার: ঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার হলো গৃহবধূর নিথর দেহ। আর সেই একই ঘরে খাটের ওপর চাদর ও বালিশ চাপা দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হলো তাঁর অসুস্থ সন্তানকে। এমন এক হাড়হিম করা ঘটনায় আলিপুরদুয়ার শহর লাগোয়া বীরপাড়া আইটিআই মোড় এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। এটি কি স্রেফ মৃত্যু নাকি পরিকল্পিত খুনের ঘটনা, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বছর সাঁইত্রিশের লায়লা বিবি তাঁর ছোট সন্তানকে নিয়ে ওই বাড়িতেই থাকতেন। তাঁর স্বামী কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। বিগত পনেরো দিন আগেই তিনি কাজের খোঁজে বাড়ির বাইরে পাড়ি দিয়েছেন। শনিবার রাতে বাড়ির ভেতর থেকে কোনও সাড়াশব্দ না পাওয়ায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। এরপর তাঁরা ঘরের ভেতরে ঢুকে যা দেখলেন, তাতে স্তম্ভিত হয়ে যান। ঘরে মেঝেতে পড়ে ছিল লায়লা বিবির নিথর দেহ। প্রাথমিক অবস্থায় প্রতিবেশীরা ভেবেছিলেন হয়তো সাপে কামড়ের কোনো ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনার আসল রূপ বুঝতে পারে।পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। লায়লা বিবির শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন এবং গলায় স্পষ্ট দাগ পাওয়া গিয়েছে। বাড়ির ভেতর ধস্তাধস্তির চিহ্নও স্পষ্ট। এসব কিছু দেখেই পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি কোনো প্রাকৃতিক মৃত্যু নয়, বরং ঠান্ডা মাথার খুন। ঘরের এক কোণে চাদর ও বালিশ দিয়ে ঢাকা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় লায়লার অসুস্থ সন্তানকে। শিশুটিকে কীভাবে এবং কেন এমন অবস্থায় রাখা হলো, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে রহস্য। নিহতের বাপেরবাড়ির লোকজনের স্পষ্ট অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই লায়লাকে খুন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। খুনের নেপথ্যে পরকীয়া নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নিহতার স্বামীকে খবর দেওয়া হয়েছে, তিনিও বাড়ি ফেরার পথে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।[TECHTARANGA-POST:10867]হিডেন স্টোরিজ নিউজ