কলকাতা: রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে ‘রেফার রোগ’ এবং দালালচক্রের দাপট বন্ধ করতে এবার কড়া পদক্ষেপ করল নতুন বিজেপি সরকার। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যে কোনও রকমের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না এবং এই বিষয়ে যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জেলা হাসপাতালগুলির ওপর কড়া নজরদারির জন্য এবার স্বাস্থ্য ভবনে বিশেষ কন্ট্রোল রুম এবং ‘লাইভ মনিটারিং’-এর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শনিবার বিধাননগর হাসপাতাল থেকে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।[TECHTARANGA-POST:9621]শনিবার কেন্দ্রের সহযোগিতায় রাজ্যজুড়ে বিনামূল্যে জরায়ুমুখ ক্যানসারের (সারভাইক্যাল ক্যান্সার) প্রতিষেধক টিকাকরণ কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে এসএসকেএম হাসপাতালে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি নতুন ইউনিটেরও উদ্বোধন করেন তিনি। গত তিন সপ্তাহে নতুন সরকারের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের কাজের খতিয়ান দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “স্বাস্থ্য ভবনে একটি আধুনিক কন্ট্রোল রুম তৈরি হচ্ছে। [TECHTARANGA-POST:9620]যেখান থেকে পেশাদার কর্মীদের মাধ্যমে জেলা হাসপাতালগুলির ওপর সরাসরি লাইভ মনিটারিং করা হবে। ডাক্তাররা ঠিকমতো ডিউটি করছেন কিনা, রোগীরা বেডে আছেন কিনা, হাসপাতালে দালালচক্র সক্রিয় কিনা — সবকিছুর ওপর নজর রাখা হবে। এমনকী, হাসপাতালে কুকুর-বেড়াল ঘুরে বেড়াচ্ছে কিনা, তাও দেখা হবে।” রোগী রেফারের গাফিলতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই কলকাতা মেডিক্যালের এমএসভিপি-র বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।[TECHTARANGA-POST:9605]এদিন সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলির জন্যও বড় নির্দেশিকা জারি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, যেসব বেসরকারি হাসপাতাল রাজ্য সরকারের কাছ থেকে এক টাকায় জমি নিয়ে তৈরি হয়েছে, সেখানে ১৫ শতাংশ বেড অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও সাধারণ মানুষের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়লে এই বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগী পাঠানো হবে এবং সেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাঁদের চিকিৎসা করতে হবে।[TECHTARANGA-POST:9617]দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ৯৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। খুব তাড়াতাড়ি রাজ্যের ১ কোটি ৩৬ লক্ষ পরিবার তথা প্রায় ৬ কোটি মানুষকে আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আনা হবে। এর ফলে উপভোক্তারা দেশজুড়ে নির্দিষ্ট হাসপাতালগুলিতে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস বিমা সুরক্ষা পাবেন, যা পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্যও অত্যন্ত সুবিধাজনক হবে। [TECHTARANGA-POST:9589]একইসঙ্গে, রাজ্যের হাসপাতালগুলির নাম ‘আয়ুষ্মান মন্দির’ করা হবে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের ওষুধের খরচ কমাতে রাজ্যে ৪৬৭টি ‘প্রধানমন্ত্রী জনঔষধী কেন্দ্র’ চালু করা হচ্ছে। যেখানে ১,০০০ টাকার ওষুধ মাত্র ১০০ টাকায় মিলবে। পাশাপাশি ‘অমৃত’ প্রকল্পের মাধ্যমে ক্যানসারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির ওষুধেও ৩০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎপ্রকাশ নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্যে ‘ন্যাশনাল হেলথ মিশন’ কার্যকর করার কথাও জানান তিনি, যার জন্য কেন্দ্রের বরাদ্দ করা ২,১০৩ কোটি টাকার মধ্যে ৫২৭ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের হাতে চলে এসেছে।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার