কোয়েলেরও মোহভঙ্গ! লক্ষ্মীবারে পদত্যাগ টলিউড কুইনের, রাজ্যসভায় ধূলিস্যাৎ হওয়ার পথে মমতা-অভিষেকের দল?
কলকাতা: গত কয়েক দিন ধরেই টলিপাড়া থেকে শুরু করে বাংলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা ছড়াচ্ছিল। শেষমেশ সেই আশঙ্কাই সত্যি করে বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই ঘাসফুল শিবিরে যে বেনজির ভাঙন শুরু হয়েছে, কোয়েলের এই পদক্ষেপ যেন তারই ধারাবাহিকতা। সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকরা একে একে নিজেদের ইস্তফাপত্র রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়ে দল ছেড়েছেন। এবার সেই পথেই হেঁটে তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেন রঞ্জিত-কন্যা। একের পর এক হেভিওয়েট ও তারকা সাংসদদের এই গণ-পদত্যাগের জেরে সংসদের উচ্চকক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল যে কার্যত ধূলিস্যাৎ হওয়ার মুখে, তা এখন জলের মতো পরিষ্কার।[TECHTARANGA-POST:9869]কোয়েল মল্লিকের এই আকস্মিক ইস্তফার ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে কমে একধাক্কায় ৯-এ এসে ঠেকল। এখানেই শেষ নয়, রাজনৈতিক সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই আরও কয়েক জন সাংসদ পদত্যাগ করতে পারেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় ভরাডুবির পর থেকেই মূলত এই ভাঙনের সূত্রপাত। একদিকে যেমন রাজ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রায় ৬৪ জন বিধায়ক মমতা-অভিষেকের নেতৃত্বাধীন মূল দল থেকে দূরত্ব তৈরি করে আলাদা ব্লক গঠন করেছেন, ঠিক তেমনই লোকসভাতেও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে প্রায় ২০ জন সাংসদ একজোট হয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে শামিল হওয়ার চিঠি দিয়েছেন। একই ভাঙনের মডেল এবার দেখা যাচ্ছে রাজ্যসভাতেও, যেখানে বিদ্রোহীরা দলবদলের আইনি জটিলতা এড়াতে সরাসরি ইস্তফার পথ বেছে নিচ্ছেন।তিনবার এড়িয়েও রেহাই নয়! উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় রাজীব কুমার, বাবুল সুপ্রিয় বা মেনকা গুরুস্বামীর পাশাপাশি চমক হিসেবে কোয়েল মল্লিকের নাম ঘোষণা করেছিল তৃণমূল। এরপর এপ্রিল মাসে সপরিবারে দিল্লিতে গিয়ে অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে সাংসদ পদের শপথও নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। সেদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কোয়েল বলেছিলেন, মানুষের ও দেশের সেবা করার মতো মহৎ দায়িত্ব পেয়ে তিনি গর্বিত। কিন্তু শপথগ্রহণের মাত্র দু'মাসের মাথাতেই দলের এই ঐতিহাসিক বিপর্যয় এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখে মোহভঙ্গ হলো অভিনেত্রীর। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যেভাবে একের পর এক আসন ফাঁকা হচ্ছে, তাতে পরবর্তী উপনির্বাচনে বর্তমান বিধানসভার পাটিগণিত অনুযায়ী এই সমস্ত রাজ্যসভা আসনে বিজেপির জয় একপ্রকার নিশ্চিত।