গেরুয়া পাঞ্জাবিতে তৃণমূলের ধর্না মঞ্চে মদন মিত্র! কুণাল ঘোষের মারাত্মক খোঁচায় শোরগোল!
কলকাতা: বাংলার রাজনীতিতে যেন এক চরম নাটकीय মোড়। বুধবারই দিদির হাত ছেড়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন একদা মমতার অত্যন্ত আস্থাভাজন মদন মিত্র। আর দলবদলের মাত্র দু’দিনের মাথায় শুক্রবার খোদ বিধানসভা চত্বরে 'কালীঘাট তৃণমূল'-এর খাস কর্মসূচিতে সশরীরে হাজির হলেন কামারহাটির এই কালারফুল বিধায়ক। নিট কাণ্ড ও সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে যখন কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়কেরা ধর্নায় বসেছিলেন, তখনই পরনে চড়া গেরুয়া রঙের পাঞ্জাবি চাপিয়ে হঠাৎ সেখানে গিয়ে হাজির হন মদন। শিবিরবদলের পর এমন এক দৃশ্য দেখে বিধানসভার অন্দরে উপস্থিত অনেকেই চমকে ওঠেন। আর পুরনো সতীর্থকে সামনে পেয়েই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মারাত্মক খোঁচা দিতে ছাড়েননি তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তবে গোটা পর্বটাই চলেছে হাসি-ঠাট্টা ও হেঁয়ালির মোড়কে, যা নিয়ে এখন তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি।[TECHTARANGA-POST:11035]মদন মিত্রকে ধর্না মঞ্চের সামনে দেখেই কুণাল ঘোষ হাসতে হাসতে টিপ্পনী কেটে বলেন, “মদনদা শারীরিক ভাবে ওই দিকে গিয়েছে ঠিকই, কিন্তু মনটা এখনও অন্য দিকে পড়ে রয়েছে।” এরপর মদনের পরিবারের ওপর কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ নিয়ে সরব হয়ে কুণাল বলেন, কাপুরুষের মতো ইডি দিয়ে বৌদি আর ছেলেদের নোটিস পাঠিয়েছে। মদনদা ভাল থাকুক, দু-চার দিন যা মন চায়, প্রাণ চায় বলুক। তবে আমরা খুব ভালো করেই জানছি, আমাদের ভিতরের একটা লোক ওদের মধ্যে রয়ে গেল। কুণালের এই মারাত্মক গুগলি হাসিমুখে শুনলেও পাল্টা চাল চালতে ভুল করেননি মদন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কালীঘাট তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দিকে তাকিয়ে অনুচ্চ কণ্ঠে মদন বলেন, “আমি চাই শোভনদা আগামী ১০ বছর বিরোধী আসনেই বসুক।” মদনের মুখে এমন ভবিষ্যদ্বাণী শুনে হেসেই ফেলেন শোভনদেব। তিনি রসিকতা করে পাল্টায় বলেন, “১০ বছর বিরোধী আসনে বসব! এটা কী বললি? আবার আসিব ফিরে।” এই সময় সেখানে উপস্থিত বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, আলিফা আহমেদ বা অশোক দেবদের মধ্যেও হাসির রোল ওঠে।[TECHTARANGA-POST:11029]অবশ্য এই হুল ফোটানোর পালা এখানেই থামেনি। পরে নিজের উপস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মদন মিত্র জানান, সম্পূর্ণ সৌজন্যবোধ থেকেই তিনি কালীঘাট তৃণমূলের কর্মসূচিতে খানিকক্ষণ সময় কাটিয়েছিলেন, কিন্তু তার জন্য তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বিন্দুমাত্র বদল হচ্ছে না। এর পরেই কুণাল ঘোষকে তীব্র খোঁচা দিয়ে খানিক হেঁয়ারির সুরে মদন বলেন, “আমার তো মনে হচ্ছে, ওর (কুণাল) মন হারানোর সময় খুব তাড়াতাড়ি আসছে।” অন্যদিকে, স্ত্রী ও পুত্রকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তলব করা প্রসঙ্গে কামারহাটির বিধায়ক বেশ স্পষ্ট করেই জানান যে, দেশের এজেন্সি ডেকেছে যখন, তখন তারা অবশ্যই যাবে। এর আগেও তাদের ডাকা হয়েছে। সত্যিই যদি তিনি নিজে কোনও অন্যায় করে থাকেন, তবে তার তো একটা বিচার হওয়া উচিত। তবে সব মিলিয়ে, দল ছাড়ার পরেও বিধানসভার অন্দরে মদন মিত্রের এই রাজকীয় আনাগোনা এবং কুণাল-মদনের এই দ্বৈরথ নতুন করে জল্পনা উসকে দিল যে— মদন আসলে কোন শিবিরের ঘুঁটি?