১৬ জনের মৃত্যুর নেপথ্যে মেয়রের প্রাক্তন ওএসডি? তারাতলা বিপর্যয়ে এবার বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস!
কলকাতা: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ে ১৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরোচ্ছে। কলকাতা পুরসভার অন্দরে এবার আঙুল উঠল খোদ মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি (OSD) কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। পুরসভার অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, ক্ষমতার চরম অপব্যবহার ও প্রভাব খাটিয়ে তারাতলার ওই বিপজ্জনক বহুতলের নির্মাণ অনুমোদন দ্রুত পাইয়ে দিয়েছিলেন তিনি। মাটি পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) থেকে শুরু করে বাধ্যতামূলক স্ট্রাকচারাল ডিজ়াইনের নকশা—কোনও প্রয়োজনীয় নথি জমা না পড়া সত্ত্বেও কীভাবে এই মরণফাঁদ তৈরির ছাড়পত্র দেওয়া হলো, তা নিয়ে এখন তোলপাড় পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ।[TECHTARANGA-POST:10700]দুর্ঘটনার পর নথিপত্র খতিয়ে দেখতে গিয়ে চোখ কপালে উঠেছে তদন্তকারীদের। প্রাথমিক কারিগরি পরীক্ষার পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভেঙে পড়া ওই গোডাউনটির কাঠামোগত নকশাতেই ছিল একাধিক মৌলিক ত্রুটি। অর্থাৎ, গোডাউনটির স্থায়িত্ব যে শুরু থেকেই তাসের ঘরের মতো ছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অথচ, নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, কোনও প্রযুক্তিগত যাচাই ছাড়াই এই বিশাল নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের এক শীর্ষ আধিকারিকের দাবি, গত আট বছর ধরে পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামোয় কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাপট এতটাই ছিল যে, তাঁর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার সাহস পাননি কোনও বড় আধিকারিকও। তিনি যা ফাইল পাস করে দিতেন, সেটাই শেষ কথা বলে ধরে নেওয়া হতো।[TECHTARANGA-POST:10713]তারাতলার এই হাড়হিম করা দুর্ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, বিগত বছরগুলিতে ঠিক কতটা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শহরের বুকে বেআইনি ও ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। যদিও এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তবে পুরসভার একাংশের মতে, শুধু এই একটি প্রজেক্টই নয়, ওই নির্দিষ্ট সময়ে অনুমোদন পাওয়া কলকাতার সমস্ত বড় বড় নির্মাণ প্রকল্পগুলিকে অবিলম্বে নতুন করে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক নিরীক্ষার (Audit) আওতায় আনা উচিত। ক্ষমতার অপব্যবহার করে আর কোথায় কোথায় এমন মৃত্যুর পরোয়ানা সই করা হয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।