বেঙ্গালুরুর বিলাসবহুল ডেরা থেকে গ্রেফতার ‘পলাতক’ তৃণমূল নেতা, জমি দখল থেকে কাটমানি—কী কী পাপের খতিয়ান ফারুকের?
হাসনাবাদ: যত বড় প্রভাবশালীই হোন না কেন, শেষরক্ষা আর হলো না। একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসতেই রাজ্য ছেড়ে সুদূর দক্ষিণ ভারতে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার টাকি পুরসভার দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক গাজি। কিন্তু পুলিশের হাত থেকে রেহাই মিলল না তাঁর। [TECHTARANGA-POST:10160]সোমবার রাতে কর্নাটক পুলিশের সহযোগিতায় বেঙ্গালুরুর একটি গোপন ডেরায় অতর্কিতে হানা দিয়ে এই পলাতক তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি বিশেষ দল। সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি দখল থেকে শুরু করে গরিবের আবাসের টাকা লুঠের মতো ভূরি ভূরি দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এই কাউন্সিলরের গ্রেফতারি ঘিরে উত্তর ২৪ পরগনার রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10182]টাকি পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফারুক গাজির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব চালানোর অভিযোগ উঠছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি টাকির ঐতিহ্যবাহী রায়চৌধুরী জমিদার বংশের বংশধর প্রবীর রায় চৌধুরী হাসনাবাদ থানায় ফারুকের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রাচীন বাড়ি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আর এই অভিযোগ সামনে আসতেই ফারুকের ক্ষমতার তাসের ঘর হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে।[TECHTARANGA-POST:10181] শুধু জমিদার বাড়িই নয়, টাকি ও হাসনাবাদ এলাকায় বিঘার পর বিঘা সাধারণ মানুষের জমি দখল, সরকারি জায়গা ও নদীর চর দখল এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার উপভোক্তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কাটমানি নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া ভোটের আগে তৎকালীন বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের হুমকি ও প্রচারে বাধা দেওয়ার মতো রাজনৈতিক দাদাগিরির মামলাও রয়েছে এই নেতার নামে। ধৃত ফারুককে মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুর স্থানীয় আদালতে হাজির করিয়ে ট্রানজ়িট রিমান্ডের মাধ্যমে হাসনাবাদ থানায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যেখানে তাঁকে জেরা করে দুর্নীতির আরও বহু তথ্য সামনে আসবে বলে ধারণা পুলিশের।