Bankura Horror: স্ত্রীর মুণ্ড মন্দিরের বেদীতে, গলা কেটে বাবাকেও খুন! বাঁকুড়ার হাড়হিম করা ঘটনায় অভিযুক্ত আটক
বাঁকুড়া: অন্ধবিশ্বাস এবং কুসংস্কারের এমন হাড়হিম রূপ হয়তো খুব কমই দেখেছেন সাধারণ মানুষ। তান্ত্রিক সাধনা আর অন্ধভক্তির বশে নিজের স্ত্রী এবং জন্মদাতা বাবাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে খুন করার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। শুধু খুন করেই ক্ষান্ত থাকেনি অভিযুক্ত, স্ত্রীর কাটা মুণ্ড ধড় থেকে আলাদা করে সোজা নিয়ে গিয়ে রেখে আসা হয় স্থানীয় একটি মন্দিরে! বিভীষিকাময় এই নারকীয় ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার সোনামুখী থানা এলাকার প্রান্তিক গ্রাম লালবাবা মানাচরে। এই মর্মান্তিক ঘটনা সামনে আসতেই সমগ্র এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দামোদর নদের চরাঞ্চলে অবস্থিত লালবাবা মানাচর গ্রামের বাসিন্দা অভিযুক্ত মঙ্গল চৌধুরী এবং তাঁর স্ত্রী রূম্পা চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরেই পুজো-মুহূর্তে মগ্ন থাকতেন। স্থানীয় একটি মন্দিরে প্রায়শই তাঁদের পুজো অর্চনা করতে দেখা যেত। প্রতিবেশীদের দাবি, ইদানীং তাঁদের বাড়িতে এক তান্ত্রিকের যাতায়াত বেশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু সেই পুজো এবং তান্ত্রিকের প্ররোচনা যে এমন ভয়ঙ্কর রক্তক্ষয়ী পরিণতি নেবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি কেউ।[TECHTARANGA-POST:13765]গত রাতে আচমকাই স্থানীয় মন্দিরে রূম্পা চৌধুরীর রক্তাক্ত ও কাটা মুণ্ড দেখতে পেয়ে শিউরে ওঠেন গ্রামবাসীরা। ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কিছুটা দূরেই মিলল অভিযুক্তের বাবা রাজেন্দ্র চৌধুরীর গলা কাটা নিথর দেহ। নৃসংশতার এমন চরম রূপ দেখে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ সোনামুখী থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং মূল অভিযুক্ত মঙ্গল চৌধুরীকে গ্রেফতার করে। ধৃতের থেকে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, তান্ত্রিকের প্ররোচনায় অন্ধবিশ্বাসের বশবর্তী হয়েই এই ঠাণ্ডা মাথার খুন।ঘটনায় আতঙ্কিত গ্রামবাসী দয়াল পাত্র জানান, মন্দিরে কাটা মুণ্ড পড়ে থাকতে দেখে চমকে যান সবাই। এই শান্ত গ্রামে এমন নারকীয় কাণ্ড আগে কখনো ঘটেনি। হাতেনাতে অস্ত্র নিয়ে অভিযুক্ত সবাইকে তাড়া করছিল এবং মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছিল। অন্যদিকে ধৃতের ভাই রামলক্ষণ চৌধুরী জানান, এক তান্ত্রিক প্রায়ই তাঁদের বাড়িতে ভিক্ষা চাইতে আসত এবং গত চার-পাঁচ বছর ধরে দাদারা পুজো-অর্চনাতেই ব্যস্ত থাকত। এমনকী তাকেও দাদা অস্ত্র নিয়ে তাড়া করেছিল বলে জানান তিনি। বর্তমানে সোনামুখী থানার পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং সেই রহস্যময় তান্ত্রিকের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছ। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে গর্জে উঠেছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।