চেয়ারকে ‘অপমানের’ অভিযোগ! কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে আনীত স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস গ্রহণ
কলকাতা: বিধানসভার স্পিকারের চেয়ারকে পরপর দু’দিন ধরে লাগাতার অপমানের গুরুতর অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার জেরে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে বিধানসভায় কড়া পদক্ষেপ হিসেবে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস এনেছেন পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ। মন্ত্রীর স্পষ্ট দাবি, একজন বিধায়কের এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও নিন্দাজনক। বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র ঘোষ এই স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস গ্রহণ করেছেন বলেই জানা গিয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে বিধানসভার অন্দরে।[TECHTARANGA-POST:11211]গত দুই দিন ধরে বিধানসভার অন্দরে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ বনাম ঋতব্রত শিবিরের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে উঠেছিল। গত বুধবার বিধানসভায় নাম থাকা সত্ত্বেও বক্তব্য রাখতে না দেওয়ার অভিযোগে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বিধানসভায় রীতিমতো ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এর জেরে গত বুধবারই কুণাল ঘোষকে সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করা হয় এবং মার্শাল ডেকে তাঁকে জোর করে বিধানসভা কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। সেই অপ্রীতিকর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার অধিবেশন শুরু হতেই ফের বিধানসভা চত্বর উত্তাল হয়ে ওঠে। অধিবেশন শুরু হওয়ার ঠিক পরেই প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় স্পিকারকে উদ্দেশ করে বলেন যে গতকালের ঘটনা নিয়ে তাঁর কিছু বক্তব্য রয়েছে। এর উত্তরে স্পিকার রথীন্দ্র ঘোষ পাল্টা মন্তব্য করে জানান যে গতকাল যা ঘটেছে তা অত্যন্ত কলঙ্কজনক। স্পিকারের এই ‘কলঙ্কজনক’ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায় ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবির। আর এই তীব্র অসন্তোষ ও হট্টগোলের জেরে শেষ পর্যন্ত শুক্রবার বিধানসভায় কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস আনেন পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ।[TECHTARANGA-POST:11202]পরিষদীয় মন্ত্রীর আনা এই নোটিসের জবাবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে কুণাল ঘোষ জানান যে তিনি কখনই স্পিকারের চেয়ারকে অসম্মান করার উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করেননি। তিনি সপাটে বলেন যে তিনি চেয়ারকে কোনোভাবেই অসম্মান করেননি, তবে স্পিকারের যদি মনে হয়ে থাকে যে তাঁর আচরণে চেয়ার অবমানিত হয়েছে, সেটির জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশ করছেন। নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি আরও বলেন যে তাঁকেও মানুষ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে বিধানসভায় পাঠিয়েছেন এবং তাঁরও নিজের বক্তব্য রাখার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন যে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের বসার জন্য একটি ঘর চেয়েছিলেন এবং মুখ্যমন্ত্রী পরিষদীয় মন্ত্রীকে বিষয়টি দেখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। পাশাপাশি তাঁরা বিধানসভায় কথা বলার সুযোগও দাবি করেছিলেন। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তাঁদের বিরোধী দলনেতা হিসেবে আখরুজ্জামানের কাছে নাম পাঠানো সত্ত্বেও তাঁকে কেন বলতে দেওয়া হলো না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। পরিষদীয় মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে তিনি দাবি করেন যে তাঁর ওই পদক্ষেপটি ছিল একটি প্রতীকী প্রতিবাদ মাত্র এবং তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করে তা তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে উভয় পক্ষের এই তীব্র দ্বন্দ্ব ও জটিলতা দ্রুত নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বয়ং স্পিকার।