কলকাতার রাজপথে ফিরছে ট্রাম! অস্ট্রেলিয়া-ফ্রান্সের হাইটেক প্রযুক্তিতে ভোলবদল
কলকাতা: তিলোত্তমার ঐতিহ্য এবার সাজছে বিদেশি সাজে। দীর্ঘ টানাপোড়েন আর উপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কলকাতার রাজপথে নতুন রূপে কামব্যাক করতে চলেছে বাঙালির আবেগের ট্রাম। তবে এবার আর সেই পুরনো ধিমে তালের চাকা নয়, বরং অস্ট্রেলিয়া এবং ফ্রান্সের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে ভরসা করে ট্রাম পরিষেবাকে আমূল বদলে ফেলার এক মাস্টারপ্ল্যান নিয়েছে সদ্য ক্ষমতায় আসা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন রাজ্য সরকার। শহরের বিভিন্ন বন্ধ হয়ে যাওয়া রুটে পরিবেশবান্ধব এই গণপরিবহণকে কীভাবে পুনরায় সচল করা যায়, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘রাইটস’ (RITES)-কে বিশেষ সমীক্ষার দায়িত্ব দিয়েছে রাজ্যের পরিবহণ দফতর। ট্রাম সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্রও তুলে দেওয়া হয়েছে তাদের হাতে।[TECHTARANGA-POST:10464]ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত কলকাতা ট্রামের প্রযুক্তিতে তেমন কোনো আধুনিক ছোঁয়া লাগেনি। উল্টে বিগত বাম ও তৃণমূল সরকারের আমলে ট্রাম ব্যবস্থার পরিকাঠামো কার্যত ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ বর্তমান শাসকদলের। রাজ্যের নতুন পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় ট্রাম পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত বহু মূল্যবান সম্পদ এবং জমি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অনেক ট্রামের স্রেফ বাইরের কঙ্কালসার কাঠামো টুকুই অবশিষ্ট রয়েছে, ভেতরের প্রয়োজনীয় দামি সরঞ্জাম উধাও। এই জরাজীর্ণ দশা কাটিয়ে ট্রামকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে নতুন মন্ত্রিসভা।[TECHTARANGA-POST:10463]পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের মতে, ট্রামের সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হলো এটি সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত এবং পরিবেশবান্ধব। তবে এই প্রকল্প চালু করতে গিয়ে যাতে রাজ্য সরকারের ওপর বড় কোনো আর্থিক বোঝা না চাপে, সেজন্য এটিকে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি (PPP) মডেলে চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। রাইটসের সমীক্ষায় মূলত দেখা হবে, বন্ধ রুটগুলির পাশাপাশি দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট এবং গঙ্গা থেকে আদিগঙ্গা সংযোগকারী বিশেষ ট্রাম রুট তৈরি করা যায় কি না। একইসঙ্গে ট্রামকে কলকাতার পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ করে তুলতে পর্যটন দফতরের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। শুধু মূল কলকাতাই নয়, রাজারহাট ও নিউটাউনের মতো আধুনিক উপনগরীর গণপরিবহণ ব্যবস্থা জোরদার করতেও সেখানে দ্রুত ট্রাম চালানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে পরিবহণ দফতর। এখন রাইটসের চূড়ান্ত সমীক্ষা রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে নবান্ন।