যৌন হেনস্থা করেছেন SFI নেতা? জেলা সম্মেলনের আগে চরম অস্বস্তিতে বাম শিবির
কলকাতা: ফের একবার যৌন হেনস্থার অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল বাংলার বাম ছাত্র রাজনীতি। এবার অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ভারতের ছাত্র ফেডারেশন বা এসএফআই-এর কলকাতা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর এক প্রভাবশালী ছাত্রনেতা। আগামী ১১ থেকে ১৩ মার্চ এসএফআই-এর কলকাতা জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ঠিক তার আগেই সংগঠনের এক মহিলা সম্পাদকমণ্ডলী সদস্যের লিখিত অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম অস্বস্তিতে আলিমুদ্দিন তথা প্রমোদ দাশগুপ্ত ভবন।[TECHTARANGA-POST:7175]অভিযোগকারিণী ছাত্রনেত্রীর দাবি, অভিযুক্ত নেতার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এবং ভবিষ্যতে ঘর বাঁধার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন ওই ছাত্রনেতা। সেই সুবাদে তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও তৈরি হয়। কিন্তু, অভিযোগকারিণীর দাবি, পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে ওই নেতা একই সময়ে একাধিক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক রাখছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই ওই ছাত্রনেতা সম্পর্ক থেকে সরে যান এবং অভিযোগকারিণীকে ‘ইন্টেলেকচুয়ালি নিম্নমানের’ (মেধাগতভাবে নিম্নস্তরের) বলে চরম অপমান করেন।[TECHTARANGA-POST:7171]সংগঠনের একাংশের অভিযোগ, জেলা নেতৃত্বের কাছে লিখিত অভিযোগ জানালেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টে, অভিযোগকারিণীকে বোঝানো হচ্ছে, যাতে তিনি বিষয়টি নিয়ে আর উচ্চবাচ্য না করেন। অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত ছাত্রনেতা আসন্ন জেলা সম্মেলনে জেলা সম্পাদক বা সভাপতির দৌড়ে রয়েছেন। সংগঠনের ভিতর কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, তাঁকে ‘বুলডোজার চালিয়ে হলেও নেতা করা হবে’ - এমন চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছে নেতৃত্বের একাংশ। উত্তর ও মধ্য কলকাতার কিছু প্রবীণ নেতার আশীর্বাদ থাকায় ওই ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা নেতৃত্ব ভয় পাচ্ছে বলে অভিযোগ।[TECHTARANGA-POST:7170]বাম সংগঠনের অন্দরে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এই প্রথম নয়। এর আগে দমদম-লেকটাউন অঞ্চলেও এক নেতার বিরুদ্ধে মদ্যপানের প্রস্তাব দেওয়া এবং ফাঁকা ফ্ল্যাটে ডাকার অভিযোগ উঠেছিল। উত্তর ২৪ পরগনার এক যুব নেতার বিরুদ্ধেও একাধিক মহিলা কর্মীকে ব্যক্তিগত সম্পর্কে জড়ানোর জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ ছিল। এমনকী, আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের দলীয় দফতরেও যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল কয়েক মাস আগে। ২০২৫ সালে এক যুব নেতার বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নির্যাতনের অভিযোগও সংগঠনের ভাবমূর্তিকে ধাক্কা দিয়েছিল।[TECHTARANGA-POST:7163]বিরোধীদের দাবি, বাম নেতৃত্ব বরাবরই নারী সুরক্ষা নিয়ে সরব হলেও নিজের সংগঠনের ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের আড়াল করতে তৎপর থাকে। ১১ তারিখ থেকে শুরু হতে চলা জেলা সম্মেলনে এই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়, নাকি অভিযুক্ত ছাত্রনেতাকেই বড় পদে বসিয়ে দেওয়া হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। সংগঠনের ভিতর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, নারীবাদ ও সমতার আদর্শ প্রচারকারী সংগঠনে যদি অভিযোগকারিণীকেই চাপের মুখে পড়তে হয়, তবে সাধারণ মানুষের কাছে কী বার্তা যাবে?