ধর্ম লুকিয়ে শ্বশুরকে ‘বাবা’ বানিয়ে আধার-ভোটার জালিয়াতি! অবশেষে পুলিশের জালে ‘নকল’ আদিবাসী তৃণমূল নেতা!
সাগরদিঘি: ধর্ম পরিবর্তন থেকে শুরু করে খোদ শ্বশুরমশাইকে নিজের ‘বাবা’ পরিচয় দিয়ে আধার, ভোটার এবং প্যান কার্ড জালিয়াতির এক অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এল মুর্শিদাবাদে। জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র (ST Certificate) তৈরি করে আদিবাসী সাজার অভিযোগে অবশেষে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে। ধৃত ওই নেতার নাম আমিরালি শেখ, যিনি সাগরদিঘি এলাকায় নিজেকে ‘অমিত সর্দার’ নামে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। সাগরদিঘি থানার পুলিশ রবিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে পাঠিয়েছে। খোদ শাসকদলের এক নেত্রীর স্বামীর এমন জালিয়াতির কীর্তি ফাঁস হতেই জেলাজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9934]ঘটনার বিবরণে জানা গিয়েছে, সাগরদিঘি পঞ্চায়েত সমিতির নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের বর্তমান কর্মাধ্যক্ষ ফুলন সর্দার। তাঁর স্বামী অমিত সর্দারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই আসল পরিচয় গোপন রাখার একগুচ্ছ অভিযোগ উঠছিল। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, ওই ব্যক্তির আসল নাম আসলে অমিত সর্দার নয়, বরং আমিরালি শেখ এবং তাঁর আসল বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়। বেশ কয়েক বছর আগে তিনি মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির গোবর্ধনডাঙ্গা গ্রামপঞ্চায়েতের খাটুয়া এলাকার বাসিন্দা ফুলন সর্দারকে বিয়ে করেন এবং তারপর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে পাকাপাকিভাবে থাকতে শুরু করেন। অভিযোগ, এরপরই সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে তিনি এক সুগভীর ষড়যন্ত্রের জাল বোনেন। নিজের আসল মুসলিম পরিচয় ও ধর্ম গোপন করে তিনি শ্বশুর জাবলু সর্দারকে নিজের ‘বাবা’ হিসেবে নথিতে নথিভুক্ত করান।[TECHTARANGA-POST:9929]শ্বশুরকে নিজের বাবা সাজিয়ে এবং নিজেকে তফশিলি উপজাতি (ST) সম্প্রদায়ের দাবি করে তিনি একটি জাল জাতিগত শংসাপত্র তৈরি করে ফেলেন। শুধু তাই নয়, এই ভুয়ো পরিচয়ের উপর ভিত্তি করেই তৈরি করা হয় নতুন আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং প্যান কার্ডও। উল্লেখ্য, বছর খানেক আগে সাগরদিঘি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান ফুলন সর্দারকে উদ্দেশ্য করে একটি রাজনৈতিক কটূক্তি করায়, এই আমিরালি ওরফে অমিত সর্দারই আদিবাসী সমাজকে একজোট করে এলাকায় একটি বড়সড় আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তখন কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি যে আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা নেতাই আসলে ছদ্মবেশী। অবশেষে সমস্ত নথির সত্যতা যাচাইয়ের পর সাগরদিঘি থানার পুলিশ রবিবার তাঁকে পাকড়াও করে। ধৃত আমিরালি শেখের আসল বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার ঠিক কোথায় এবং এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে প্রশাসনের আর কারা জড়িত, তা জানতে ধৃতকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করতে চলেছে পুলিশ।