ডিজিটাল বিপ্লব বিধানসভায়! এবার আর থাকবে না কাগজের ফাইল, ২০০ জন নতুন বিধায়ককে ‘ক্লাস’ নিতে আসছেন দিল্লির স্পিকার?
কলকাতা: বঙ্গে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি সরকার গঠন করার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে একের পর এক প্রশাসনিক সংস্কারের ঝড় উঠছে। এবার সেই পরিবর্তনের হাওয়া এসে লাগল খোদ রাজ্য বিধানসভার ঐতিহাসিক অলিন্দে। সম্পূর্ণ নতুন রূপে সেজে উঠতে চলেছে অষ্টাদশ বিধানসভা ভবন, যেখানে এবার দেখা যাবে এক অভূতপূর্ব ডিজিটাল বিপ্লব। এবার থেকে রাজ্য বিধানসভার সমস্ত কার্যপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ‘পেপারলেস’ বা কাগজহীন করার এক বড়সড় ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শেষ হতেই বিধায়কদের জন্য এক বিশেষ উচ্চমানের প্রশিক্ষণেরও বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বড়সড় পরিকল্পনার কথা সগর্বে ঘোষণা করলেন বিধানসভার নবনির্বাচিত স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোস। সরকারের এই অত্যাধুনিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে বাংলার সংসদীয় রাজনীতিতে এক স্বচ্ছ ও নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।[TECHTARANGA-POST:9879]এবারের বিধানসভা নির্বাচনের পর শাসক ও বিরোধী দল মিলিয়ে একঝাঁক নতুন মুখ বিধানসভায় এসেছেন, যাঁরা সংসদীয় রাজনীতির অন্দরের জটিল নিয়মকানুনের সঙ্গে এখনও পুরোপুরি সড়গড় নন। স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোস এদিন জানান, “এবার আমাদের বিধানসভায় অন্তত ২০০ জন এমন বিধায়ক রয়েছেন, যাঁরা একেবারেই নতুন এবং প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। তাঁদের আইনসভা পরিচালনার খুঁটিনাটি ও কার্যপদ্ধতি শেখাতে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।” বাজেট অধিবেশনের ঠিক পরেই এই মেগা ক্লাসের আয়োজন করা হবে বলে স্পিকার স্পষ্ট করে দেন। আর এই নতুন বিধায়কদের প্রশিক্ষণ দিতে খোদ দিল্লি থেকে লোকসভার স্পিকারের পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থানের স্পিকারদের মতো সংসদীয় বিষয়ের দিকপাল ব্যক্তিত্বদের কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে, যা সত্যিই এক নজিরবিহীন ঘটনা।[TECHTARANGA-POST:9878]উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৫ মে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার দিনই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক যুগান্তকারী ঘোষণা করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এবার থেকে বিধানসভার অন্দরে হওয়া সমস্ত বিতর্ক এবং অধিবেশনের কার্যপদ্ধতি সরাসরি বা লাইভ সম্প্রচার করা হবে টেলিভিশনের পর্দায়। এর মূল লক্ষ্য ছিল, যাতে সাধারণ মানুষ নিজের চোখে দেখতে পারেন তাঁদের নির্বাচিত বিধায়করা ঠিক কেমন পারফর্ম করছেন, তাঁদের আচরণ কেমন এবং সরকার কীভাবে কাজ করছে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই স্বচ্ছতার ভাবনার সঙ্গে তাল মিলিয়েই স্পিকার বৃহস্পতিবার জানিয়ে দিলেন, রাজ্য বিধানসভাকে এবার সম্পূর্ণরূপে ‘ই-বিধানসভা’ বা ডিজিটাল হাউস হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। পেপারলেস বা কাগজহীন ব্যবস্থা চালু হলে সমস্ত তথ্য সরাসরি ও মুহূর্তের মধ্যে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিধায়কদের হাতের মুঠোয় চলে আসবে, যা অতীতে কোনো সরকার করার সাহস দেখায়নি।