Hidden Stories (বাংলা)

আরামের খোঁজে এসি লোকালে ঝোঁক, সিটিং ক্যাপাসিটি ছাপিয়ে যাত্রী - বাড়বে কি ট্রেন সংখ্যা?

এক সময় লোকাল ট্রেনের কামরায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যাত্রা ছিল প্রায় কল্পনার মতো। বনগাঁ শাখায় এসি লোকাল চলবে - এমন কথা শুনে অনেকেই হাসতেন। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন শুধু এসি লোকাল চলছে তা-ই নয়, প্রতিদিন উপচে পড়ছে যাত্রীর ভিড়। বনগাঁ, রানাঘাট, কৃষ্ণনগর-সহ শিয়ালদহ শাখার একাধিক রুটে এসি লোকাল ধীরে ধীরে নিত্যযাত্রীদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10766]এক সময় অফিসযাত্রার সমার্থক ছিল গাদাগাদি ভিড়, ধাক্কাধাক্কি আর দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা। সেই চেনা ছবিতে বদলের ছোঁয়া এনেছে এসি লোকাল। যাত্রীরা একটু আরাম, একটু বেশি জায়গা এবং তুলনামূলক স্বস্তির জন্য অতিরিক্ত খরচ করতেও রাজি। আর তারই প্রতিফলন মিলছে পরিসংখ্যানে। পূর্ব রেলের তথ্য অনুযায়ী, শিয়ালদহ-রানাঘাট এসি লোকাল পরিষেবা চালুর পর থেকেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। জুন মাসে এই ট্রেনে মোট ৮০ হাজার ৪০৮ জন যাত্রী সফর করেছেন। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার ৮৭২ জন যাত্রী এই ট্রেনে উঠেছেন। অথচ আপ-ডাউন মিলিয়ে ট্রেনটির দৈনিক সিটিং ক্যাপাসিটি মাত্র ২ হাজার ২৩২। সেই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে সিটিং ক্ষমতার প্রায় ১২৮.৭ শতাংশ যাত্রী নিয়ে চলেছে এই পরিষেবা। জুন মাসে এই ট্রেন থেকে রেলের আয় হয়েছে ৬১.৩৮ লক্ষ টাকা।টানা ৫ দিন তুমুল দুর্যোগ!বনগাঁ শাখার ছবিটা আরও চমকপ্রদ। প্রথম দিকে যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা সংশয় থাকলেও এখন সেই ট্রেনই রীতিমতো জনপ্রিয়। জুন মাসে বনগাঁ এসি লোকালে মোট ৮১ হাজার ৩৩২ জন যাত্রী সফর করেছেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ হাজার ১২৮ জন যাত্রী এই পরিষেবা ব্যবহার করেছেন। অথচ দৈনিক সিটিং ক্যাপাসিটি একই - ২ হাজার ২৩২। অর্থাৎ, গড়ে প্রায় ১৪০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে ছুটেছে এই ট্রেন। কিছু দিনে সেই সংখ্যা ১৮৫ থেকে ১৮৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। জুন মাসে এই ট্রেন থেকে রেলের আয় হয়েছে ৬২.৩৬ লক্ষ টাকা। কৃষ্ণনগর শাখাতেও একই ছবি। জুন মাসে এসি লোকালে সফর করেছেন ৬১ হাজার ৭৯৭ জন যাত্রী। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার ৪৭২ জন যাত্রী এই ট্রেন বেছে নিয়েছেন। সিটিং ক্যাপাসিটির তুলনায় যাত্রী উপস্থিতি পৌঁছেছে প্রায় ১১১ শতাংশে। এই ট্রেন থেকে জুন মাসে রেলের আয় হয়েছে ৪৮ লক্ষ টাকারও বেশি।[TECHTARANGA-POST:10733]রেলকর্তাদের মতে, এই পরিসংখ্যান শুধু আয়ের হিসাব নয়, বদলে যাওয়া যাত্রী মানসিকতারও প্রতিফলন। অনেকেই এখন একটু স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য বেশি টাকা খরচ করতে প্রস্তুত। এমনকি দূর-দূরান্ত থেকে রোগীকে কলকাতায় আনতেও অনেক পরিবার এসি লোকালকেই বেছে নিচ্ছেন। এতে যেমন খরচ কমছে, তেমনই সময়ও বাঁচছে। বর্তমানে শিয়ালদহ মেন, বনগাঁ ও বারাসত শাখা মিলিয়ে মোট ছ'জোড়া এসি লোকাল চলছে।[TECHTARANGA-POST:10779] বনগাঁ থেকে শিয়ালদহ কিংবা রানাঘাট থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত ভাড়া ১২০ টাকা। মাসিক টিকিটের দাম যথাক্রমে ২,৪৩০ ও ২,৪৪০ টাকা। অর্থাৎ, দৈনিক গড় খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৮১ টাকা। সাধারণ লোকাল ট্রেনের তুলনায় ভাড়া প্রায় আট থেকে নয় গুণ বেশি হলেও যাত্রীদের দাবি, এসি লোকালের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ আরাম ও ব্যক্তিগত পরিসর। অফিসযাত্রী দেবময় পাল ও শ্রেষ্ঠা দাসের কথায়, “এই ট্রেনে স্পেস বেশি। ভিড় হলেও সেটা গাদাগাদি করার মতো নয়।”

আরামের খোঁজে এসি লোকালে ঝোঁক, সিটিং ক্যাপাসিটি ছাপিয়ে যাত্রী - বাড়বে কি ট্রেন সংখ্যা?

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার