Hidden Stories (বাংলা)

জগন্নাথধামে লুকিয়েও শেষ রক্ষা হলো না! পুলিশের জালে কলকাতার প্রভাবশালী প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত

কলকাতা: তোলাবাজি, কাটমানি আর দুর্নীতির পাহাড় গড়েও পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে ফেরার ছিলেন তিনি। কিন্তু আইন যে কতটা লম্বা, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। অবশেষে পুলিশের গুন্ডা দমন শাখার জালে ধরা পড়লেন কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। বুধবার ওড়িশার পুরী থেকে তাঁকে নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর গ্রেফতারির সঙ্গেই কার্যত রেকর্ড গড়ে ফেলল কলকাতা পুরসভা, কারণ সুশান্তবাবুকে নিয়ে এই পর্যন্ত কলকাতার মোট ১০ জন প্রাক্তন কাউন্সিলর শ্রীঘরের বাসিন্দা হলেন।[TECHTARANGA-POST:10043]সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকাটা বেশ দীর্ঘ হলেও, তাঁর পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়াল ফুটপাতের গরিব হকারদের কান্না। পূর্ব কলকাতার আনন্দপুর থানায় একটি বাজারের হকার্স কমিটির অন্তত ১৩০ জন সদস্য সুশান্ত এবং তাঁর সাত সহযোগীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল অত্যন্ত মারাত্মক। ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাজারে নতুন করে টিন ও শাটার দেওয়া দোকান তৈরির নামে এক বিশাল চক্র ফেঁদেছিলেন সুশান্তবাবু। কোন ব্যবসায়ী কত বড় দোকান পাবেন, তা নির্ধারণ করত প্রাক্তন কাউন্সিলরের নিজস্ব একটি বিশেষ সিন্ডিকেট। দোকানের আকার অনুযায়ী নির্দিষ্ট ‘রেট’ বেঁধে দিয়ে গত কয়েক বছরে হকারদের কাছ থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।ফুলবাগানের ডেরা থেকে আচমকা গ্রেপ্তার উদয়ন গুহ, কী এমন করলেন প্রাক্তন মন্ত্রী? ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু নতুন দোকান বরাদ্দ করাই নয়, বেআইনিভাবে তৈরি করা একাধিক দোকান চড়া দামে বিক্রিও করে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি দোকান প্রায় ৬ লক্ষ টাকা করে বিক্রি করে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন সুশান্ত ও তাঁর দলবল। এই ঘটনার পর ব্যবসায়ীরা যখন তদন্ত করে তাঁদের টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়ে আনন্দপুর থানায় জোড়া এফআইআর দায়ের করেন, তখন থেকেই কার্যত এলাকা ছেড়ে ‘গায়েব’ হয়ে যান এই হেভিওয়েট নেতা। তাঁর ফোন বন্ধ ছিল এবং এলাকায় কোনও খোঁজ মিলছিল না। রাজনৈতিক মহলে তখনই দুইয়ে দুইয়ে চার করে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল যে, মামলার চাপেই ফেরার হয়েছেন ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের এই নেতা।[TECHTARANGA-POST:9981]সুশান্ত ঘোষ গা-ঢাকা দিলেও পুলিশ কিন্তু হাত গুটিয়ে বসে ছিল না। কয়েক দিন আগেই ওড়িশা সীমান্তবর্তী বেলদা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল সুশান্তের বিশ্বস্ত গাড়ির চালককে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই গোয়েন্দারা জানতে পারেন যে, খোদ প্রাক্তন কাউন্সিলর জগন্নাথের পুণ্যভূমি পুরীতে গিয়ে আত্মগোপন করে রয়েছেন। সেই সূত্র ধরেই বুধবার ওড়িশায় হানা দেয় লালবাজারের গুন্ডা দমন শাখার বিশেষ টিম। সেখান থেকেই পাকড়াও করা হয় সুশান্তকে। বর্তমানে ধৃত নেতাকে কলকাতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গরিব ব্যবসায়ীদের থেকে লুঠ করা কোটি কোটি টাকা কোথায় লুকানো রয়েছে এবং এই চক্রে দলের আর কোনও বড় মাথার যোগ রয়েছে কি না, এখন সেটাই জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

জগন্নাথধামে লুকিয়েও শেষ রক্ষা হলো না! পুলিশের জালে কলকাতার প্রভাবশালী প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার