Hidden Stories (বাংলা)

Arjun Singh: ‘পাসের টাকায় ইডির নজর!’ মমতার অ্যাকাউন্টে ৩০ লাখ পৌঁছতেই বিস্ফোরক অর্জুন, গ্রেফতারের দাবিতে তোলপাড় রাজ্য

কলকাতা: দুর্গাপূজার ‘প্রিভিউ শো’-র পাসের টাকা নিয়ে ভয়াবহ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির স্ক্যানারে উঠে এলেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। কিন্তু এই তদন্তে সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্য ছড়ালো তখন, যখন এই প্রথম সরাসরি যুক্ত হল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম! এক্স হ্যান্ডেলে ইডি বিস্ফোরক দাবি করে জানিয়েছে, ইন্দ্রনীলের সংস্থা থেকে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অংশ সরাসরি ঢুকেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন ঝড় উঠেছে এবং বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ‘দেশদ্রোহী’ অ্যাখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তাঁর গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন।তদন্তকারীদের দাবি, ২০২২ সাল থেকে বিগত তিন বছর ধরে পুজোর পাসের নামে প্রায় ৮৫ কোটি টাকার সরকারি টেন্ডার অনিয়ম করে ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, ইন্দ্রনীলের মালিকাধীন সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়া ৩.৮ কোটি টাকারও বেশি নগদের মধ্য থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে। ঘটনার পর চরম আক্রমণ শানিয়ে নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টাকা নিতেন তা বাংলার মানুষ জানতেন, এখন তা প্রকাশ্যে। উনি নিজের ভাইপোকে স্রেফ টাকা তোলার মেশিন বানিয়ে রেখেছিলেন। বাংলাকে ধ্বংস করে পুরো ভাঁড়ে মা ভবানি অবস্থা করে গিয়েছেন, উনি একজন দেশদ্রোহী এবং ওনাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা উচিত।”[TECHTARANGA-POST:13272]অন্যদিকে তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে অর্জুনের এই আক্রমণের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের শীর্ষনেতা কুণাল ঘোষ সাফাই দিয়ে জানান, ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা থেকে যে টাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে গিয়েছে, তা সম্পূর্ণ বৈধ এবং আইনি রয়্যালটির টাকা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা গান ও সুর বাণিজ্যিক ব্যবহারের বদলে সম্পূর্ণ আয়কর নথিবদ্ধ প্রক্রিয়াতেই এই অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতি করার তোপ দেগে বলেন, নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদ উঠতেই রাজনৈতিক উদ্দেশে তদন্তকারী সংস্থাকে হাতিয়ার করা হচ্ছে।তবে এই বিতর্কে তৃণমূলকে রেয়াত করেনি বাম শিবিরও। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সুজন চক্রবর্তী তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “তৃণমূল দলটাই তো ৪২০, তোলাবাজিই ওদের মূল পেশা। আমরা বহুদিন ধরেই বলেছি আসল মাথাকে ধরা উচিত। চাকরির দুর্নীতির টাকা থেকে শুরু করে রয়্যালটির নামে এ সব কোটি কোটি টাকার অনিয়ম একই সূত্রে গাঁথা।” পুজোর আগে দুর্গাপূজার পাস দুর্নীতি ঘিরে ইডির এই বিস্ফোরক দাবি ঘিরে এখন রাজ্যজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক পারদ চড়ছে।

Arjun Singh: ‘পাসের টাকায় ইডির নজর!’ মমতার অ্যাকাউন্টে ৩০ লাখ পৌঁছতেই বিস্ফোরক অর্জুন, গ্রেফতারের দাবিতে তোলপাড় রাজ্য