দল বদলে চরম বিপর্যয়! রাজনীতির আঙিনা ছেড়ে এবার পুরনো পেশায় ফিরছেন যুবনেতা প্রতীক উর?
কলকাতা: রাজনীতিতে যোগ দিয়ে দল বদলের মাশুল? বামেদের উদীয়মান তরুণ মুখ থেকে তৃণমূলে যোগদান, আর তাতেই যেন উল্টে গেল কেরিয়ারে হিসাব-নিকাশ। রাজনৈতিক ব্যাকফুটে এসে এবার কি তবে চিরতরে রাজনীতির ময়দানকে বিদায় জানাতে চলেছেন যুবনেতা প্রতীক উর রহমান? জোড়াফুল শিবিরের অভূতপূর্ব ডামাডোল এবং চরম প্রশাসনিক ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে এখন রাজনৈতিক সন্ন্যাসের জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে তাঁকে ঘিরে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, সমস্ত সমীকরণ মাথায় রেখে রাজনৈতিক কেরিয়ারে ইতি টেনে নিজের পুরনো আইনি পেশাতেই মন দিতে চান এই তরুণ আইকন।[TECHTARANGA-POST:11150]২০০৮ সালে যখন রাজ্য বাম রাজনীতির সুদিন অস্তমিত হতে বসেছে, ঠিক তখনই কাস্তে-হাতুড়ি ঝান্ডা হাতে তুলে নিয়েছিলেন প্রতীক উর। বামেদের প্রতিটি ছোট-বড় মিছিলে প্রথম সারির মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তীক্ষ্ণ ও ঝাঁজালো বক্তব্যে বারবার শান দিয়েছেন শাসকদলের বিরুদ্ধে, দলের পদ ও একাধিক নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগও পেয়েছেন। কিন্তু আচমকাই গত ফেব্রুয়ারিতে সিপিএম নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে লালপার্টি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। নেপথ্যে ছিলেন একসময়ের বাম সহকর্মী ঋতব্রত। জোড়াফুলে যোগ দিয়ে প্রতীক উর দাবি করেছিলেন, রাজ্যের উন্নয়নের শরিক হতে চান।তবে প্রতীক উরের যোগদানের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতির গতিপথ সম্পূর্ণ ঘুরে গিয়েছে। ঘাসফুল শিবিরের রাশ এখন কার্যত হাতবদল হওয়ার মুখে, চরম ব্যাকফুটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। একাধিক আইনি জটিলতা ও দপ্তরের বাড়ি-কার্যালয়ে বুলডোজার চলার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাতে আমতলার সেই কার্যালয়ও ছাড় পায়নি, যেখানে অভিষেকের হাত ধরে তৃণমূলে ভিড়েছিলেন প্রতীক উর। পুরো ঘটনার পর থেকে প্রতীক উরকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। অন্যদিকে তাঁর তথাকথিত আশ্রয়দাতা ‘ঋতদা’ নিজেদের আসল দল হিসেবে দাবি করায় এখন পুরোপুরি বিশ বাঁও জলে এই যুবনেতার স্থান।[TECHTARANGA-POST:11152]রাজনীতির এই বিশাল টানাপোড়েনে কোন পক্ষে থাকবেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে থাকলেও শোনা যাচ্ছে— আর কোনও রাজনৈতিক ঝান্ডা নয়, বরং কালো কোটেই ফিরতে চলেছেন প্রতীক উর রহমান। ২০১৬ সালে আইন পাশ করে অল ইন্ডিয়া বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া প্রতীক উর এবার সরাসরি কোর্টরুমের ভালোবাসার জায়গায় ফিরতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন বলে খবর। রাজনীতির আঙিনায় একের পর এক মোড় বদলের পর তাঁর এই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে রাজ্য রাজনীতির এক বড় চর্চার বিষয় হতে চলেছে।