পদ্ম-শিবিরের জয়ের পরেই সস্ত্রীক কালীঘাটে রাজ্যপাল! লক্ষ্য কি ‘গৌরব পুনরুদ্ধার’? জনমঙ্গলে প্রার্থনা আর এন রবির
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে যাওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা। [TECHTARANGA-POST:8780]রাজ্যের শাসনক্ষমতায় বড়সড় পালাবদলের পরদিনই সস্ত্রীক কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী রবি। মা কালীর চরণে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের আপামর জনগণের সামগ্রিক কল্যাণ এবং রাজ্যের ‘শ্রী’ ও ‘সমৃদ্ধি’র জন্য প্রার্থনা করেন তিনি। রাজভবনের (লোকভবন) পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এই সফরের ছবি শেয়ার করার পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।[TECHTARANGA-POST:8778]রাজ্যপালের এই পুজো দেওয়াকে নিছক ধর্মীয় আচার হিসেবে দেখতে নারাজ ওয়াকিবহাল মহল। কারণ, ভোটের ঢাকে কাঠি পড়ার আগেই গত পয়লা বৈশাখ রাজভবনের এক অনুষ্ঠান থেকে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন আর এন রবি। রাজ্যের জিডিপির হারের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বাংলার ‘করুণ’ অবস্থার কথা উল্লেখ করেছিলেন এবং তরুণ প্রজন্মকে এক নতুন পরিবর্তনের কর্মযজ্ঞে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। [TECHTARANGA-POST:8763]তিনি বলেছিলেন, “গোটা দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলা পিছিয়ে থাকতে পারে না। গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য আমাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।” সেই সময় রাজ্যপালের এই মন্তব্যকে ঘিরে শাসকদল ও রাজভবনের সংঘাত চরমে পৌঁছায়, এমনকি ইসলামপুরের জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে তাঁকে ‘লাটসাহেব’ বলে কটাক্ষও করেছিলেন।[TECHTARANGA-POST:8746]ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে বিজেপির অভাবনীয় সাফল্য। আর সেই ঐতিহাসিক জয়ের পরদিনই রাজ্যপালের মন্দিরে গিয়ে বাংলার ‘উন্নতি’র প্রার্থনা করা অত্যন্ত ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করা হচ্ছে। রাজভবনের বার্তায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্যপাল চান বাংলা আবার তার হারানো গৌরব ফিরে পাক এবং উন্নয়নের পথে নেতৃত্ব দিক। একদিকে রাজ্যে যখন সরকার গড়ার প্রস্তুতি তুঙ্গে, ঠিক সেই আবহেই রাজ্যপালের এই কালীঘাট দর্শন এবং ‘পজিটিভ’ পরিবর্তনের পক্ষে তাঁর অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।