মাঝরাতে রণক্ষেত্র পার্ক সার্কাস! আচমকাই ঢুকল বুলডোজার, চোখের নিমেষে গুঁড়িয়ে গেল একের পর এক দোকান
পার্ক সার্কাস: শিয়ালদহ ও সুকান্ত সেতুর পর এবার পার্ক সার্কাস স্টেশন। রাজ্যে জবরদখল ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অল-আউট যুদ্ধ এবার আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিল। সোমবার গভীর রাতে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার অত্যন্ত ব্যস্ত এই স্টেশনে চলল রেল ও পুলিশের মেগা বুলডোজার অ্যাকশন। চলতি মাসের শুরুতেই জবরদখলকারীদের সরে যাওয়ার নোটিস দেওয়া হলেও কাজ হয়নি। অবশেষে গতকাল রাত সাড়ে দশটা নাগাদ আচমকাই বিপুল সংখ্যার রেল পুলিশ (RPF), রাজ্য পুলিশ এবং র্যাফ (RAF) পুরো স্টেশন চত্বর ঘিরে ফেলে। এর পর গভীর রাতে শুরু হয় মূল উচ্ছেদ অভিযান, যার জেরে কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা এলাকা।[TECHTARANGA-POST:10350]অভিযান শুরুর আগে রেল কর্তৃপক্ষের তরফে মাইকিং করে ব্যবসায়ীদের শেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল নিজেদের জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও কোনও হকারই দোকান সরাননি। এর পরেই আসরে নামে রেলের দানবীয় বুলডোজার। একে একে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় স্টেশনের ভেতরে ও বাইরে দীর্ঘদিন ধরে গজিয়ে ওঠা অবৈধ দোকান, গুমটি ও কাউন্টার। পার্ক সার্কাস স্টেশন এলাকা বরাবরই অত্যন্ত ঘিঞ্জি এবং জবরদখলের কারণে সাধারণ রেলযাত্রীদের যাতায়াত করাই দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার আসার পর রেলের এই অতি সক্রিয়তায় প্রায় আড়াই ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে পুরোপুরি ফাঁকা ও দখলমুক্ত করা হল এই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনটিকে।[TECHTARANGA-POST:10349]হাওড়া, শিয়ালদহ ও দমদমের পর পার্ক সার্কাসের এই মধ্যরাতের মেগা অ্যাকশনে স্বভাবতই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। উচ্ছেদ হওয়া দোকানদারদের একাংশের অভিযোগ, কোনওরকম বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই এভাবে আচমকা বুলডোজার চালিয়ে তাঁদের রুটিরুজি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে রেল ও পুলিশ প্রশাসন এই বিষয়ে অনমনীয় মনোভাব স্পষ্ট করে দিয়েছে। পার্ক সার্কাসই শেষ নয়, রেলের এই জমি পুনরুদ্ধার অভিযান ইতিমধ্যেই হাবড়া ও যাদবপুরের মতো স্টেশনগুলিতেও সফলভাবে চালানো হয়েছে। শহরের ভোল বদলে এবং রেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই ব্যাক-টু-ব্যাক বুলডোজার অ্যাকশন যে এখনই থামছে না, তা সোমবার রাতের এই ঘটনাতেই পরিষ্কার।