ভয়াবহ বিপর্যয়ে সিকিমে মৃত বেড়ে ২২! অন্ধকার টানেলের গভীরে এখনও চলছে প্রাণের খোঁজ, গাফিলতি কার?
সিকিম: তিস্তা স্টেজ-৬ প্রকল্পের জলবিদ্যুৎ টানেল যেন পরিণত হয়েছে আস্ত এক মৃত্যুফাঁদে! সিকিমের এই ভয়াবহ শিল্প বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়াল ২২-এ। তবে এখানেই শেষ নয়, অন্ধকার ও জলমগ্ন সুড়ঙ্গের গভীরে আটকে থাকা বাকি শ্রমিকদের খোঁজে এখনও চলছে নিরলস লড়াই। বুধবার সারারাত ধরে চরম প্রতিকূল পরিবেশকে উপেক্ষা করেই উদ্ধারকাজ চালিয়ে গিয়েছেন বিভিন্ন সংস্থার উদ্ধারকারী দল।[TECHTARANGA-POST:11176]জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুর নাগাদ দক্ষিণ সিকিমের সামারডুং-এ ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ‘হেড রেস টানেল’-এ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এরপরই আটকে পড়া শ্রমিকদের বাঁচাতে আসরে নামে এনডিআরএফ, মাইনস সেফটি-র রেসকিউ টিম, এসডিআরএফ, এনএইচপিসি, প্যাটেল ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড এবং ওয়েস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের মতো সংস্থাগুলি। [TECHTARANGA-POST:11175]বুধবার রাত ১০টা নাগাদ আসানসোল থেকে ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের (ECL) একটি বিশেষ দল অকুস্থলে পৌঁছয়। মধ্যরাত পর্যন্ত প্রবল কসরত করে এনএইচপিসির তৈরি বিশেষ জয়েন্ট রেসকিউ টিম টানেলের ভেতরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করে এবং আটকে থাকা জল বের করতে পাম্প সচল করতে সক্ষম হয়। এনএইচপিসি-র শীর্ষ কর্তাদের কড়া নজরদারিতে চলছে এই উদ্ধারকাজ। ইতিমধ্যেই নিহতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা এককালীন আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছে এনএইচপিসি কর্তৃপক্ষ।[TECHTARANGA-POST:11138]গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং। ঠিক কীভাবে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটল, কোথায় গাফিলতি ছিল, তা খতিয়ে দেখতে সার্বিক পরিস্থিতির পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, তদন্তে নির্মাণকারী সংস্থার কোনওরকম গাফিলতির প্রমাণ মিললে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপাতত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ, অন্ধকার সুড়ঙ্গের শেষে কোনও অলৌকিক প্রাণের স্পন্দনের আশায় বুক বাঁধছেন আটকে থাকা শ্রমিকদের স্বজনেরা।