বোরখা পরে ভোটদানে কড়া কমিশন! নির্দিষ্ট কাউন্টারে মুখ দেখানো বাধ্যতামূলক, মনোনয়নেও নয়া প্যাঁচ
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। বিহার মডেল অনুসরণ করে এবার বাংলাতেও মুসলিম মহিলাদের ভোটদানের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করা হচ্ছে। কমিশনের সাফ নির্দেশ, বোরখা বা হিজাব পরে ভোট দিতে এলে শুধুমাত্র পরিচয়পত্র দেখালেই চলবে না। বুথের বাইরে নির্দিষ্ট একটি কাউন্টারে গিয়ে ভোটকর্মীদের কাছে নিজের মুখও দেখাতে হবে। সচিত্র পরিচয়পত্রের ছবির সঙ্গে মুখ মিলিয়ে দেখার পরই মিলবে ভোটদানের অনুমতি।[TECHTARANGA-POST:7293]ভোটের মুখে কমিশনের আরও এক সিদ্ধান্তে অস্বস্তিতে পড়তে পারেন বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। কমিশন জানিয়েছে, ভোটারতালিকায় যদি কোনও ব্যক্তির নাম বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের তদন্তের আওতায় বা ‘বিচারাধীন’ (Under Scrutiny) অবস্থায় থাকে, তাহলে চূড়ান্ত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিল করতে পারবেন না।[TECHTARANGA-POST:7282] গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ভোটারতালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটার ‘বিচারাধীন’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৫ লক্ষের সমস্যার সমাধান হলেও বাকিদের ভবিষ্যৎ এখনও ঝুলে রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত আধিকারিকরা এই তালিকা খতিয়ে দেখছেন। যদি কেউ বাতিল হন, তবে ট্রাইব্যুনালে আবেদনের সুযোগ থাকলেও, সময় সংক্ষিপ্ত হওয়ায় তাঁদের ভোটে দাঁড়ানো কার্যত অনিশ্চিত।[TECHTARANGA-POST:7286]আগামী সপ্তাহের শেষেই চূড়ান্ত সংশোধিত ভোটারতালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগেই ঘোষণা হয়ে যেতে পারে নির্বাচনী নির্ঘণ্ট। কমিশন সূত্রে খবর, সংখ্যালঘু প্রধান এলাকাগুলিতে ভোটারতালিকা নিবিড়ভাবে সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়া, এবার বয়স্ক ভোটারদের পাশাপাশি বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ভোট নেওয়ার (Home Voting) সুবিধাও চালু করতে চলেছে কমিশন।[TECHTARANGA-POST:7285]এখন দেখার, কমিশনের এই ‘মুখ দেখানো’র সিদ্ধান্ত সংখ্যালঘু মহলে কতটা গ্রহণযোগ্য হয়! যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্য়েই চর্চা শুরু হয়েছে। তবে, ভোট জালিয়াতি রুখতে কমিশন যে কোনও আপস করতে নারাজ, তা এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট।