সুরলোকে চিরবিদায়: ৯২ বছর বয়সে স্তব্ধ সুরের জাদুঘর, প্রয়াত কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে
নিজস্ব প্রতিনিধি: সংগীত জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। দীর্ঘ সাত দশকের সুরের সফর থামিয়ে অমৃতলোকের পথে পাড়ি দিলেন ভারতীয় সংগীতের প্রবাদপ্রতিম নক্ষত্র আশা ভোঁসলে। শনিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। গত কয়েকদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা ও বুকে সংক্রমণের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল। আইসিইউ-তে (ICU) চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ রক্ষা হলো না। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতের একটি সোনালি যুগের অবসান ঘটল।[TECHTARANGA-POST:7945]হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ প্রবল অস্বস্তি ও বুকে সংক্রমণ নিয়ে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল। ইমার্জেন্সি কেয়ার ইউনিটে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর দ্রুত তাঁকে আইসিইউ-তে স্থানান্তর করা হয়।[TECHTARANGA-POST:7932] প্রথমে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের জল্পনা ছড়ালেও, তাঁর নাতনি জানাই ভোঁসলে সমাজমাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং সংক্রমণের কারণেই চিকিৎসা চলছে শিল্পীর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনুরাগীদের প্রার্থনা ব্যর্থ করে বিদায় নিলেন সুরসম্রাজ্ঞী। প্রসঙ্গত, এর আগে গত জুলাই মাসেও একবার তাঁর প্রয়াণের ভুয়ো খবর রটেছিল, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন পুত্র আনন্দ ভোঁসলে। কিন্তু এবার আর জল্পনা নয়, বাস্তবেই স্তব্ধ হলো সেই কালজয়ী কণ্ঠ।[TECHTARANGA-POST:7942]আশা ভোঁসলের প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিনোদন দুনিয়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে। শাস্ত্রীয় সংগীত থেকে পপ, ক্যাবারে কিংবা বিরহের সুর— সব ধরনের গানেই তাঁর ছিল অবাধ যাতায়াত। তাঁর চলে যাওয়া মানে একটি ইতিহাসের প্রস্থান। সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন তাঁর সহস্রাধিক কালজয়ী সৃষ্টির মাধ্যমে। শোকাতুর ভক্তকুল ও সহকর্মীরা আজ অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় জানাচ্ছেন তাঁদের প্রিয় 'আশা তাই'-কে।