রোগীকে এক্সপায়ার্ড স্যালাইন! ফের মারাত্মক গাফিলতি মেদিনীপুর মেডিক্যালে, সিসিইউতে বৃদ্ধা
মেদিনীপুর: বছর ঘুরলেও বদলাল না স্বভাব, ফের একবার রোগীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার মারাত্মক অভিযোগ উঠল মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে। এবার এক বৃদ্ধা রোগীকে মেয়াদ উত্তীর্ণ (এক্সপায়ার্ড) স্যালাইন দেওয়ার জেরে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল হাসপাতাল চত্বরে। বিষয়টি পরিবারের লোকেদের নজরে আসতেই তড়িঘড়ি ওই রোগীকে সিসিইউ (CCU)-তে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এই চরম গাফিলতির জেরে ক্ষুব্ধ রোগীর পরিবার ইতিমধ্যেই হাসপাতালের বিরুদ্ধে মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। ফলে জল গড়িয়েছে থানা পুলিশ পর্যন্ত।বর্ষার ভয়াল রূপ! সুবর্ণরেখার সেতু ভেঙে দুর্ভোগে ঝাড়গ্রামহাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ওই রোগীর নাম মানসী দে। তিনি মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগরপল্লির বাসিন্দা। বৃদ্ধার ছেলে জানান, গত ৫ জুলাই কিডনি ও হার্টের সমস্যা নিয়ে মেদিনীপুর মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁর মাকে। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান যে বৃদ্ধার স্ট্রোক হয়েছে। সেই অনুযায়ী বুধবার সকালে তাঁকে স্যালাইন দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু বিকেল হতেই আচমকা ছটফট করতে শুরু করেন বৃদ্ধা, তাঁর বুকে তীব্র জ্বালা অনুভব হয়। তখনই স্যালাইনের বোতলের দিকে নজর যায় রোগীর ছেলের। তিনি দেখেন, যে স্যালাইনটি তাঁর মায়ের শরীরে চলছে, সেটির মেয়াদ ফুরিয়েছে গত মার্চ মাসেই! অর্থাৎ চার মাস আগের এক্সপায়ার্ড স্যালাইন দেওয়া হচ্ছিল রোগীকে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি হাসপাতালের নার্স ও সুপারকে বিষয়টি জানিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন।[TECHTARANGA-POST:10728]সরকারি হাসপাতালে রোগীর জীবন নিয়ে এই বেনজির খামতি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়। যদিও মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের সুপার ইন্দ্রনীল সেন বিষয়টিকে কিছুটা হালকা করার চেষ্টা করে জানান, ঠিক কী ঘটেছে তা খতিয়ে না দেখে এখনই মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে রোগী আপাতত স্থিতিশীল রয়েছেন এবং তাঁর প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। সুপারের অদ্ভুত সাফাই, হাসপাতালে বিপুল পরিমাণ ওষুধের স্টক থাকে, কোনওভাবে হয়তো ভুলবশত একটি মেয়াদ উত্তীর্ণ বোতল চলে এসেছে। তবে তা দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। সুপারের এই 'ভুলবশত' তত্ত্ব অবশ্য মানতে নারাজ ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ ও রোগীর পরিজনেরা।[TECHTARANGA-POST:10686]মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে এই ধরনের হাড়হিম করা গাফিলতি কিন্তু প্রথম নয়। এর আগে গত ২০২৫ সালেও পাঁচজন প্রসূতি মা-কে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছিল এই একই হাসপাতালের বিরুদ্ধে। সেই সময় এই ঘটনার পরই ২ সদ্যোজাতের মৃত্যু হওয়ায় রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। যদিও পরবর্তীকালে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের বিশেষ কমিটির পরীক্ষায় জানানো হয়েছিল যে স্যালাইনে কোনও সমস্যা ছিল না। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হাসপাতালের সদিচ্ছা ও নজরদারি ব্যবস্থার ওপর মস্ত বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।