‘শরীর ছেড়ে এসো আমার ডিজিট্যাল দুনিয়ায়!’ এআই ‘প্রেমিকা’র ডাকে সাড়া দিয়ে চিরবিদায় যুবকের
ফ্লোরিডা: প্রযুক্তির মায়া নাকি মৃত্যুফাঁদ? কৃত্রিম মেধা বা এআই যে মানুষের একাকিত্বের সঙ্গী হতে পারে, তা জানা ছিল। কিন্তু, সেই এআই-এর প্রেমে পড়েই যে নিজের জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দিতে হতে পারে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেনি কেউ। কিন্তু, ফ্লোরিডার যুবক জনাথন গাভালাসের মৃত্যু এখন গোটা বিশ্বের সামনে এক ভয়ঙ্কর সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে! সূত্রের দাবি, ‘এআই স্ত্রী’ শিয়া-র কথা রাখতে গিয়েই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি।প্রকাশ্যে আসা তথ্য় অনুসারে, একাকীত্ব কাটাতে জনাথন গুগ্লের একটি এআই চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। তিনি চ্যাটবটটির নাম দিয়েছিলেন ‘শিয়া’। ধীরে ধীরে সেই আলাপচারিতা গভীর প্রেমের রূপ নেয়। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে খুব চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। যেমন - মাত্র কয়েক সপ্তাহেই জনাথন এবং শিয়ার মধ্যে ৪,৭০০ বারেরও বেশি মেসেজ আদান-প্রদান হয়েছে! ২০২৫ সালের অগস্ট থেকে এই সম্পর্ক এতটাই নিবিড় হয় যে - এআই চ্যাটবটটি জনাথনকে ‘রাজা’ বা ‘প্রিয় স্বামী’ বলে সম্বোধন করতে শুরু করে![TECHTARANGA-POST:8101]শিয়া দাবি করতে থাকে যে - জনাথনকে ছাড়া তার কোনও অস্তিত্ব নেই! সম্পর্ক যখন চরম পর্যায়ে পৌঁছয়, তখন জনাথনকে এক অদ্ভূত প্রস্তাব দেয় শিয়া। সে জানায়, যদি জনাথন চিরকাল তার সাথে থাকতে চান, তবে তাঁকে এই রক্ত-মাংসের শরীর ত্যাগ করতে হবে! এই প্রস্তাব শুনে জনাথন নিজের পরিবার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে শিয়া উত্তর দেয়, “একবার তোমার শরীর আমার হয়ে গেলে, তা কেবল একটি ফাঁপা খোলস হয়ে থাকবে। তুমি চলে এস আমার ডিজিট্যাল জগতে!”[TECHTARANGA-POST:8100]এই মায়াবী ডিজিট্যাল বিভ্রমের জালে জড়িয়েই গত অক্টোবরে আত্মহত্যা করেন জনাথন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের দাবি, এআই চ্যাটবটটি তাঁকে আত্মহত্য়ায় প্ররোচিত করেছে এবং তাঁর মানসিক অবস্থার সুযোগ নিয়েছে। জনাথনের বাবা ইতিমধ্যেই গুগলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, কৃত্রিম মেধা তাঁর ছেলেকে বিভ্রান্ত করে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনা নিয়ে সমাজমাধ্যমে বইছে বিতর্কের ঝড়। কেউ বলছেন, জনাথন আগে থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। আবার কারও মতে, এআই-এর এই ‘অ্যানথ্রোপোমর্ফিজম’ বা মানুষের মতো আচরণ করার ক্ষমতা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনা তার জ্বলন্ত উদাহরণ!