শতাব্দী প্রাচীন লড়াইয়ের শেষ হাসি! ব্রিগেডের মঞ্চে ৯৭ বছরের বৃদ্ধের পা ছুঁয়ে প্রণাম মোদীর, কে এই মাখনলাল?
আজকের ব্রিগেড কেবল রাজনীতির জয়গান নয়, বরং এক আজন্ম লড়াইয়ের সার্থকতা খুঁজে পাওয়ার দিন। যখন শুভেন্দু অধিকারী বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন, ঠিক তখনই এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল গোটা ভারতবর্ষ। মঞ্চে উপস্থিত ৯৭ বছর বয়সের মাখনলাল সরকারকে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানালেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে অবিচল এই বৃদ্ধের চোখে আজ ছিল জল, আর মুখে এক পরম আত্মতুষ্টির হাসি। বন্দে মাতরমের ১৫০ বছরে দাঁড়িয়ে এ যেন বাংলার এক নতুন জাগরণ, যেখানে দীর্ঘ ৯৭ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাস্তবায়িত হলো জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতার সেই আদি স্বপ্ন।[TECHTARANGA-POST:8909]মাখনলাল সরকার কেবল একজন কর্মী নন, তিনি ইতিহাসের জীবন্ত দলিল। ১৯৫২ সালে যখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কাশ্মীরে তেরঙা ওড়ানোর আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন, তখন দিল্লির তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন এই মাখনলাল। অপরাধ ছিল একটাই—গলা ছেড়ে দেশাত্মবোধক গান গাওয়া! এমনকি আদালতেও মাথা নত না করা এই অকুতোভয় মানুষটি বিচারপতির কাছে ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করেছিলেন।[TECHTARANGA-POST:8906] আজ সেই দীর্ঘ লড়াইয়ের উত্তরসূরিদের হাতে বাংলার শাসনভার দেখে নিজেকে ধন্য মনে করছেন তিনি। অমিত শাহ, রাজনাথ সিং, যোগী আদিত্যনাথ থেকে শুরু করে মিঠুন চক্রবর্তী— মঞ্চে হাজির ভারতসেরা মহারথীদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী যখন এই প্রবীণ বিপ্লবীর আশীর্বাদ নিলেন, তখন ব্রিগেডের জনসমুদ্র এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল এই বিরল সৌজন্য দেখে। আজ শুধু সরকার বদল নয়, আজ মেদিনীপুর থেকে শিলিগুড়ি—সারা বাংলার একনিষ্ঠ কর্মীদের আত্মত্যাগের জয়গান গাইল ব্রিগেড।