Hidden Stories (বাংলা)

দুই কবরের মাঝে দুই হাত ছড়ানো, স্ত্রী-পুত্রের মৃত্যুর ঠিক ১১ দিন পর চিরতরে ঘুমিয়ে গেলেন যুবক!

মহোবা: পাশাপাশি দুটো তাজা কবর। একটা আদরের ছোট ছেলের, অন্যটা প্রিয়তমার। আর সেই দুই কবরের মাঝখানের ফাঁকা জায়গাটুকুতেই স্তব্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে এক যুবকের নিথর দেহ— যার দুই হাত ছড়িয়ে রয়েছে স্ত্রী আর সন্তানের কবরের ওপর। গত ১১ দিন ধরে যে বুকফাটা হাহাকার আর শূন্যতা তাঁকে কুরে কুরে খাচ্ছিল, অবশেষে যেন সেই প্রিয়জনদের কোলেই চিরতরে আশ্রয় নিলেন ৪০ বছর বয়সি সুবহান। উত্তরপ্রদেশের মহোবা জেলার চরখারি এলাকার এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি আজ পুরো এলাকার বাতাস ভারী করে তুলেছে। শোকের এমন ভয়ঙ্কর গভীরতা আর ভালোবাসার এমন নির্মম পরিণতি বোধহয় রূপোলী পর্দার গল্পকেও হার মানায়।[TECHTARANGA-POST:9782]ট্র্যাজেডির শুরুটা হয়েছিল গত ২৫ মে। তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে আচমকাই মৃত্যু হয় সুবহানের কনিষ্ঠ পুত্র হাসনাইন আহমেদের। কলিজার টুকরো সন্তানের এই আকস্মিক চলে যাওয়া মেনে নিতে পারেননি মা রাজিয়া খাতুন। পুত্রের মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই জ্ঞান হারান তিনি। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঘরভর্তি হাসিখুশি সংসারের অর্ধেকটাই এক লহমায় শ্মশান হয়ে যায়। একসঙ্গে স্ত্রী আর ছোট ছেলেকে হারিয়ে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ও মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন সুবহান। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ দিন ধরে তিনি একপ্রকার নাওয়া-খাওয়া ত্যাগ করেছিলেন। সারাদিন শুধু ডুকরে কাঁদতেন আর প্রতিদিন নিয়ম করে চলে যেতেন স্ত্রী-পুত্রের কবরস্থানে। সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে শূন্য কবরের দিকে তাকিয়ে থাকতেন।[TECHTARANGA-POST:9781]গত শুক্রবার ভোর ৪টে নাগাদও কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে কবরস্থানের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন সুবহান। কিন্তু দুই ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পরও যখন তিনি ঘরে ফেরেননি, তখন পরিবারের লোকেদের মনে ছটফটানি শুরু হয়। খোঁজাখুঁজি করতে করতে তাঁরা যখন স্থানীয় কবরস্থানে পৌঁছান, তখন সেখানে এক শিউরে ওঠা দৃশ্য দেখতে পান। স্ত্রী ও পুত্রের কবরের মাঝখানে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে ছিলেন সুবহান। তাঁর হাত দুটো ছোঁয়া ছিল দুই কবরের গায়ে। তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, সুবহান আর বেঁচে নেই। কী কারণে তাঁর মৃত্যু হলো, তা এখনও স্পষ্ট নয়; পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। তবে স্বজনদের দাবি, কোনো রোগ নয়, বরং স্ত্রী-পুত্রের আকস্মিক মৃত্যুর শোক আর মানসিক আঘাতই কেড়ে নিল এই যুবকের প্রাণ। কিন্তু এই চরম শোকের আবহে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় নেমে এসেছে সুবহানের বাকি তিন সন্তান— ১৭ বছরের সইফ, ১৪ বছরের রোশনি এবং ১১ বছরের আলিয়ার জীবনে। বাবা-মা আর ছোট ভাইকে হারিয়ে এক নিমেষে সম্পূর্ণ অনাথ হয়ে গেল এই তিন নাবালক ভাই-বোন।

দুই কবরের মাঝে দুই হাত ছড়ানো, স্ত্রী-পুত্রের মৃত্যুর ঠিক ১১ দিন পর চিরতরে ঘুমিয়ে গেলেন যুবক!

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার