কলকাতার বুক থেকে উধাও ৭০ ফুটের মেসি! মাঝরাস্তায় ক্রেন এনে তড়িঘড়ি সরানো হল মূর্তি, কী ঘটেছে জানেন?
কলকাতা: ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ ও দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সরানো হলো কলকাতার লেকটাউনের বিখ্যাত লিওনেল মেসির মূর্তিটি। সোমবার সকাল থেকেই ভিআইপি রোডের লেকটাউন মোড়ে ট্রাফিকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ, ফুটবল রাজপুত্রের ৭০ ফুট উঁচু এই বিশালাকার মূর্তিটি সরানোর কাজ শুরু করে প্রশাসন। সম্প্রতি প্রবল হাওয়ায় মূর্তিটি বিপজ্জনকভাবে দুলছে— এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় পথচারী ও এলাকাবাসীর নিরাপত্তার খাতিরে সেটিকে আগে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। এবার দুর্ঘটনা এড়াতে সম্পূর্ণভাবে সেটিকে সেই স্থান থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো।[TECHTARANGA-POST:9665]সোমবার সকাল থেকেই মূর্তি অপসারণের জন্য লেকটাউন মোড়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রস্তুতি শুরু করে প্রশাসন। ঘটনাস্থলে আনা হয় একাধিক বিশাল ক্রেন ও হাইড্রোলিক সিঁড়ি। পাশাপাশি মূর্তিটি যাতে কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার জন্য চারপাশে বাঁশের খাঁচাও তৈরি করা হয়। পিডব্লিউডি (PWD) ইঞ্জিনিয়ারদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই কাজ করা হয়, কারণ এই মূর্তির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে লাখো ফুটবল ভক্তের আবেগ।[TECHTARANGA-POST:9636] গত সপ্তাহে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম লক্ষ্য করেন যে, জোর হাওয়া দিলেই দোতলা সমান উঁচু প্ল্যাটফর্মের ওপর থাকা এই ভারী মূর্তিটি দুলছে। এরপরই পিডব্লিউডি-র বিশেষজ্ঞরা এসে পরীক্ষা করে জানান, মূর্তিটি সত্যিই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং যে কোনও সময় ভেঙে বড়সড় বিপর্যয় ঘটতে পারে। এর মধ্যে একদিন কালবৈশাখী ঝড়ের সময় মূর্তিটি আরও বিপজ্জনকভাবে দুলতে থাকায় গত দু’সপ্তাহ ধরে মূর্তির পিছনের রাস্তা, সামনের ফ্লাইওভার এবং পাশের মাঠ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।[TECHTARANGA-POST:9659]গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্বজয়ী ফুটবলারের বিশেষ ‘গোট’ (GOAT) ট্যুরের অংশ হিসেবে যখন মেসি কলকাতায় এসেছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর স্মৃতিতে লেকটাউনের মোড়ে এই দানবীয় মূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছিল। তবে এখন মূর্তিটি নামিয়ে আনার পর সেটির নতুন ঠিকানা কোথায় হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমান প্ল্যাটফর্মের উচ্চতা কিছুটা কমিয়ে আরও মজবুতভাবে একই স্থানে পুনরায় মূর্তিটি বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনা করে এটিকে নিউ টাউনের ইকো পার্কে স্থায়ীভাবে স্থানান্তর করার সম্ভাবনাও সমানভাবে খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। আপাতত মূর্তিটিকে একটি সুরক্ষিত স্থানে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে সংরক্ষিত করে রাখা হয়েছে।