ফিরহাদের সই করা কাগজের ওপর ৯টি লাশ! ‘সিটি অফ জয়’-কে মৃত্যুপুরী বানানোর নেপথ্যে কোন ‘কালী’?
কলকাতা: তারাতলার সেই অভিশপ্ত নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এবার সরাসরি কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দিকে আঙুল তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশনে দাঁড়িয়ে কার্যত নথিপত্র পেশ করে বিস্ফোরক দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি ওই বিপজ্জনক গোডাউনের প্ল্যানে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছিল কলকাতা পুরসভা (KMC), যাতে স্বয়ং তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারি, “টাকা খেতে খেতে এই সিটি অফ জয় কলকাতাকে আস্ত একটা মৃত্যুপুরী বানিয়ে ছেড়েছে তৃণমূল সরকার। এটা আপনাদেরই পাপের ফল! এর আগে একের পর এক বিপর্যয় ঘটলেও আপনারা কোনো শিক্ষা নেননি। তবে এবার প্রাক্তন মেয়রের সই যখন পাওয়া গিয়েছে, তখন রেয়াত করা হবে না কাউকেই।”[TECHTARANGA-POST:10260]এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, তারাতলার এই ট্র্যাজেডি নিয়ে তিনি কোনো রাজনীতি করতে চান না, কিন্তু যারা সাধারণ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী, তাদের প্রত্যেককে চরম শাস্তি পেতে হবে। ভেঙে পড়া ওই গোডাউনের প্ল্যান পাসের নথিতে ফিরহাদ হাকিমের পাশাপাশি পুরসভার সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর শেখ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার নির্মলেন্দু সরকার এবং কার্যনির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার রঞ্জন দাসেরও সই রয়েছে বলে জানান তিনি। এই চারজনের বিরুদ্ধেই কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে শুভেন্দু জানান, এত বড় একটা পুরসভা অথচ জরুরি পরিস্থিতিতে জীবন বাঁচানোর জন্য তৃণমূল সরকার কোনো অত্যাধুনিক উদ্ধারকারী যন্ত্র পর্যন্ত কেনেনি। শেষমেশ বিহার রেজিমেন্টের সেনা জওয়ানরা নিজেদের আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে ধ্বংসস্তূপ থেকে সাধারণ মানুষকে উদ্ধার করেছে।[TECHTARANGA-POST:10259]তারাতলা কাণ্ডের সূত্র ধরে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের নেপথ্যে থাকা এক বিরাট দুর্নীতি চক্রের পর্দাফাঁস করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, কলকাতা পুরসভায় ‘কালী’ নামে এক রহস্যময় ব্যক্তির সবুজ সংকেত ছাড়া কোনো বিল্ডিংয়ের প্ল্যান পাসই হতো না। এই কালী নামের ব্যক্তিই ইএম বাইপাসের ধারে তৃণমূলের নতুন দলীয় কার্যালয় বা তৃণমূল ভবনটি তৈরি করাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, “কলকাতা পুরসভায় এতদিন ধরে কী খেলা চলেছে, তা আমরা ভালো করেই জানি। এই কালীকে ধরলেই সব অকাট্য তথ্য বাইরে চলে আসবে। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে এবং খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” সব শেষে, কঠিন পরিস্থিতিতে রাতভর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করার জন্য সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, কলকাতা পুলিশ এবং সিভিল ডিফেন্সের সমস্ত উদ্ধারকর্মীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী।