মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার পাহাড়ে শুভেন্দু! ১২৫ দিনের কাজ থেকে মেডিক্যাল কলেজ—একগুচ্ছ ধামাকা ঘোষণা
কার্শিয়াং: বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বা বিজেপি নেতা হিসেবে এর আগে বহুবার পাহাড়ে পা রাখলেও, পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মঙ্গলবারই ছিল শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম পাহাড় সফর। আর এই প্রথম সফরেই কার্শিয়ঙের গোথালস গ্রাউন্ডে আয়োজিত ‘জনকল্যাণ শিবির’-এ যোগ দিয়ে পাহাড়বাসীর জন্য একগুচ্ছ মেগা উপহারের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন পাহাড়ের সমস্ত রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে যৌথভাবে সংবর্ধনা জানানো হয়। সর্বদলীয় এই অভূতপূর্ব অভ্যর্থনায় আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী কার্শিয়ঙের জনসভা থেকে স্পষ্ট জানান যে, এবার ডবল ইঞ্জিন সরকারের আসল সুফল পাবেন পাহাড়ের মানুষ এবং কেন্দ্রের সমস্ত থমকে থাকা প্রকল্প এবার পাহাড়ে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হবে।[TECHTARANGA-POST:10005]রাজনৈতিকভাবে দার্জিলিং, কার্শিয়াং এবং কালিম্পং—এই তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রই বর্তমানে বিজেপির দখলে এবং দার্জিলিং লোকসভা আসনটিও দীর্ঘ সময় ধরে পদ্ম শিবিরের অধীনে রয়েছে। পাহাড়কে বিজেপির অত্যন্ত পুরনো ও বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পাহাড়বাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করতেই তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর। পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করছে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বড় ঘোষণা করেন যে, পাহাড়ে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে কালিম্পঙে একটি নতুন মেডিক্যাল কলেজ করা হবে। এর পাশাপাশি পাহাড়ের শিক্ষা পরিকাঠামোকেও আমূল বদলে ফেলা হবে। রাজ্যের সাড়ে ৬ কোটি মানুষ এবার ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাবেন এবং ‘জিআরএমজি’ প্রকল্পের অধীনে বছরে ১২৫ দিনের কাজের বড় সুযোগ মিলবে পাহাড়ে। যুবসমাজের সুবিধার্থে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে একটি আধুনিক স্টেডিয়াম তৈরি করা হবে এবং বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকিও আগের মতোই বজায় থাকবে।[TECHTARANGA-POST:9991]বিগত জমানার নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগে রাজ্যে একটি ‘নেগেটিভ’ সরকার ছিল এবং ঠিকমতো নিয়োগ তো হয়ইনি, উল্টে জিটিএ (GTA)-তেও ব্যাপক নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে। তবে এই সরকারের আমলে তেমনটা হবে না আশ্বস্ত করে তিনি জানান, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পুলিশে বড়সড় নিয়োগ করা হবে। হাইকোর্টের রক্ষাকবচ ভেঙে উধাও অরূপ বিশ্বাস?কার্শিয়ঙের জনসভা থেকে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, আগের মুখ্যমন্ত্রী বলতেন পাহাড়ে নাকি তাঁর কোনও ভোট নেই, তাই তিনি এখানকার জন্য কাজও করতেন না, স্রেফ পর্যটক হয়ে পাহাড়ে ঘুরে যেতেন। কিন্তু তিনি এখানে পর্যটক হিসেবে আসেননি, কাজ করতে এসেছেন এবং যা বলবেন তা-ই করবেন। এদিন দেশ রক্ষায় পাহাড়ের বীর জওয়ান ও শহিদ সেনানীদের অবদানকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। উল্লেখ্য, কার্শিয়ঙের গোথালস গ্রাউন্ডে বর্তমানে প্রশাসনের ১৯টি দফতরের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প নিয়ে ‘জনকল্যাণ শিবির’ চলছে, যেখান থেকে সরাসরি আমজনতাকে সরকারি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই শিবিরের কাজকর্ম খতিয়ে দেখেন।