কল্যাণী: বঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী থাকল নদিয়ার কল্যাণী। মঙ্গলবার কল্যাণীর এক হাই-প্রোফাইল প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশে একই মঞ্চে দেখা গেল সদ্য ‘বেসুরো’ হওয়া বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে।[TECHTARANGA-POST:9478] নির্বাচন মেটার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে যে চরম অন্তর্দ্বন্দ্বের আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল, এই ঘটনা যেন তাতে আরও ঘি ঢালল। বৈঠক শেষে এক তপ্ত সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে মন্তব্য করেন, “প্রশাসনিক বৈঠকে বিশেষ বিশেষ এমপিদের ডাকব। আজকে বিশেষ বিশেষ এমপিদের মধ্যে বারাসতের এমপিকে আমরা বিশেষ বিশেষভাবে ডেকেছিলাম। তিনি আমাদের সহযোগিতাও করেছেন।” শুভেন্দুর এই ‘বিশেষ বিশেষ’ সাংসদ তত্ত্ব নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9512]সাংবাদিক বৈঠকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী খোলসা করেছেন কারা তাঁর এই ‘বিশেষ বিশেষ’ সাংসদ। শুভেন্দুবাবু স্পষ্ট জানান, যাঁরা অনেকদিন পর সত্যি কথা বলছেন এবং বলছেন যে আপনারা আমাদের স্বাধীনতা পাইয়ে দিচ্ছেন, তাঁরাই আসলে বিশেষ সাংসদ। সংবাদমাধ্যমে বারাসতের সাংসদের বিস্ফোরক সব বক্তব্য শোনার পরই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে এই বৈঠকে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, কল্যাণীর এই বৈঠকে এসে খোদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার তাঁর কাছে অনুযোগ করে বলেছেন যে, আগে নিজের দলেই কোনো বৈঠকে তিনি বলার সুযোগ পর্যন্ত পেতেন না। এদিন নতুন সরকারের প্রশাসনিক বৈঠকে মন খুলে বলতে পেরে কাকলি যেমন খুশি হয়েছেন, তেমনই বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে অত্যন্ত হাসিমুখে হাতও মিলিয়েছেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:9510]এদিন কল্যাণীর এই পর্যালোচনা বৈঠকে মূলত নদিয়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনা— এই তিন জেলার সমস্ত সাংসদ, বিধায়ক এবং উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার ‘বয়কটের রাজনীতি’র উল্টো পথে হাঁটবে তাঁর সরকার। এবার থেকে সমস্ত সরকারি ও প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদেরও সসম্মানে ডাকা হবে। সেই নীতি মেনেই এদিন কল্যাণীর বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের। আর সেই আমন্ত্রণ রক্ষা করেই এদিন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ছাড়াও বসিরহাটের আরও তিনজন তৃণমূল বিধায়ক এই বৈঠকে যোগ দেন, যা তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9470]আগের জমানার তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন সাফ জানান, আগে পরিস্থিতি এমন ছিল যে বিডিও বা থানার ওসি’রাও বিরোধী দল বিজেপির সাংসদ-বিধায়কদের ফোন পর্যন্ত ধরতেন না। এই নোংরা সিস্টেমকে এবার পুরোপুরি বদলে ফেলা হচ্ছে। এদিন বসিরহাটের একাধিক বিরোধী বিধায়কের মধ্যে একজনকে প্রশাসনিক বিষয়ে বলার পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা, “আমরা চাই কেন্দ্র ও রাজ্যের ডবল ইঞ্জিনের সম্পূর্ণ সুযোগ যাতে বাংলার সাধারণ মানুষ পান। রাজনীতি এবং রাজনৈতিক কচকচানি কেবল মাত্র নির্বাচনের সময়ই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, উন্নয়নের ক্ষেত্রে নয়।” এখন দেখার, শুভেন্দুর এই ‘স্বাধীনতা’ দেওয়ার চালের পর তৃণমূলের অন্দরে কাকলি ও বাকি বিধায়কদের ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেয়।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার