১০০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক চোল সম্পদ ফিরল দেশে, প্রধানমন্ত্রীর নেদারল্যান্ডস সফরে মুকুটে নতুন পালক!
আমস্টারডাম: কূটনৈতিক স্তরে এক ঐতিহাসিক বড় সাফল্য ভারতের ঘরে! দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ডাচদের কবল থেকে ভারতের মাটিকে ফিরিয়ে আনা হল চোল সাম্রাজ্যের এক হাজার বছরের পুরনো বহুমূল্য সম্পদ। নেদারল্যান্ডস সফরে গিয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ডাচ সরকারের কাছ থেকে এই ঐতিহাসিক তাম্রলিপি নিজের হাতে গ্রহণ করেছেন। আন্তর্জাতিক কূটনীতির আঙিনায় এই ঘটনাকে বর্তমান মোদী সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। ২০১২ সাল থেকে ভারত লাগাতার এই প্রত্নবস্তু দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছিল, যা অবশেষে গতকাল বাস্তবায়িত হল।[TECHTARANGA-POST:9213]ইতিহাসে ‘লাইডেন প্লেটস’ নামে পরিচিত এই চোল যুগের তাম্রলিপিগুলি এতদিন নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্যন্ত যত্ন সহকারে সংরক্ষিত ছিল। একাদশ শতকের এই ঐতিহাসিক নিদর্শনে মোট ২১টি বড় এবং ৩টি ছোট ফলক রয়েছে, যার বেশিরভাগ জুড়েই খোদাই করা রয়েছে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও সমৃদ্ধ ভাষা তামিল। চোল সাম্রাজ্যের বীরত্ব, সংস্কৃতি ও গৌরবময় ইতিহাসের এক অনন্য জীবন্ত দলিল এই তাম্রলিপি। ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন-এর উপস্থিতিতে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই সম্পদ ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই আনন্দের মুহূর্তটি দেশবাসীর সঙ্গে ভাগ করে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন। সেখানে চোল সংস্কৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করার পাশাপাশি উনবিংশ শতকের মধ্যভাগ থেকে এই অমূল্য নথি সযত্নে রক্ষা করার জন্য নেদারল্যান্ডস সরকার এবং লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।[TECHTARANGA-POST:9212]ঐতিহাসিক এই নিদর্শন পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। নেদারল্যান্ডসে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রথমে প্রবাসী ভারতীয়দের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন, যেখান থেকে বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতি ও একের পর এক বিপর্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এরপর ডাচ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্ব রাজনীতি ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়ে তাঁর একপ্রস্থ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়, যেখানে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি নতুন চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে হাজার বছরের পুরনো চোল ঐতিহ্যকে ভারতের বুকে ফিরিয়ে আনার এই ঘটনাটি এখন বিশ্বমঞ্চে ভারতের কূটনৈতিক শক্তির এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।